৫:৩০:০৫

অভিবাসীদের জীবনরক্ষায় জোরালো ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান

শুনুন /

১৮ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে সংকটের মুখে পড়া অভিবাসীদের জীবনরক্ষায় আরও জোরালো ভূমিকা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের অনুমান উন্নত জীবনের আশায় বিশ্বে ঘরছাড়া হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় বত্রিশ কোটি বিশ লাখ।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে অভিবাসন দারিদ্র দূরীকরণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি একইসাথে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনসাধারণের প্রতি অহেতুক বিদেশীভীতি প্রত্যাখ্যান করে অভিবাসনকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

অভিবাসনকালে জীবনহানির দিক থেকে ২০১৩ সম্ভবত ছিলো সবচেয়ে প্রাণঘাতি বছর।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম বলছে যে আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাকালেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অন্য অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্ত এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে স্থলপথে মরুভূমির মধ্য দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে।

আই ও এম এর লেনর ডয়েল বলছেন যে তাঁর সংস্থা মনে করে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হবে।প্রকৃত সংখ্যা কখনোই হয়তো জানা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মি ডয়েল বলেন যে আই ও এম এ আমরা লাম্পাদুসা , ক্রিসমাস আইল্যান্ডস, বাহামাস, মেক্সিকো সীমান্তে  সপ্তাহ দুয়েক আগের মর্মান্তিক মৃত্যুগুলো , এমনকি বিশ্বের  যেকোন স্থানেই অভিবাসীদের মৃত্যুর বিষয়টি আলোচনা করছি।

মি ডয়েল বলেন যে আমরা যেবিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করছি তাহোল এই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে এবং আমাদের তাই দেখা দরকার যে অধিকহারে মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ হচ্ছে বলেই সংখ্যা বাড়ছে নাকি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা যে ২৩৬০ সংখ্যাটি বলেছি একেবারে নিশ্চিত হয়ে আস্থার সঙ্গে বলছি – আসল সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।

মি ডয়েল বলেন যে আমরা মনে করি আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যমূখী অভিবাসনধারা হিসাবে নিলে এই সংখ্যা দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার  পর্য্যন্ত হতে পারে।

আই ও এম বলছে আগে অভিবাসীদেরকে স্বাগত জানাতো এমন দেশগুলো এখন ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় দরিদ্রদের অভিবাসনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আই ও এম অভিবাসন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিগুলো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভাগ্য অনুসন্ধানের লক্ষ্যে যাঁরা দেশান্তিরি হচ্ছেন তাঁদের উন্নত সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আই এল ও'র মহাপরিচালক গাই রাইডার আই ও এম এর এই আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাই রাইডার বলেন যে অভিবাসনের ক্ষেত্রে যেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালায় ঘাটতি বা দূর্বলতা সবচেয়ে দৃশ্যমান ও প্রকট সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের অভিবাসনের বিষয়টি। এক্ষেত্রে আইএলও'র যুক্তি হচ্ছে যে যেসব বিষয়ে কার্য্যকর নীতিমালার জন্য জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন সেগুলোর মধ্যে এটি রয়েছে।

আইএলও বলছে যে অভিবাসী  শ্রমিকরা যে শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন সেখানে ছাড়াও তাঁরা স্বদেশে এবং কমর্স্থলের অর্থনীতিতে গুরুত্বর্পূণ অবদান রেখে থাকেন।

 

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন