২১:০৫:১৬

'সন্ত্রাস মোকাবেলায় প্রচলিত কৌশল যথেষ্ট নয়'

শুনুন /

সন্ত্রাস মোকাবেলায় প্রচলিত নিরাপত্তামূলক কৌশল অনুসরণই যথেষ্ট নয় বলে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক সিম্পোজিয়ামে মন্তব্য করেছেন মহাসচিব ব্যান কি মুন।

মি ব্যান বলেন যে একারণেই বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।

মি ব্যান বলেন যে সন্ত্রাসী সহিংসতার প্রসার ঘটায় যে ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতা, তার শিখা নিভিয়ে দিতে আমাদেরকে অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন যে দ্রুতগতির বিশ্বায়নের যুগে সামাজিক বৈষম্য এবং অসহিষ্ণু পরিবেশের কারণে কোন জনগোষ্ঠীকে আর 'আলাদা' হিসাবে চিহ্ণিত করা যায় না।

তিনি সন্ত্রাসীদের  বিদ্বেষের ভাষাকে প্রত্যাখ্যানেরও আহ্বান জানান।

সন্ত্রাসীদের আবেদন মোকাবেলায় সংলাপ ও সমঝোতা শীর্ষক জাতিসংঘ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। বুধবার  এই সিম্পোজিয়াম  অনুষ্ঠিত হয়।

মিয়ানমারে সহিংসতায় ৫০ হাজারের বেশী বাস্তুহারা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত মাসের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কমপক্ষে পঞ্চাশজন নিহত এবং বায়ান্ন হাজারেরও বেশী লোক বান্তুচ্যূত হয়েছেন বলে সরকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জাতিসংঘ এবং মানবিক কার্য্যক্রমে তার শরীক সংস্থাগুলো এই অবস্থার পটভূমিতে সেখানে খাদ্য, স্বাস্থ্য, পানি এবং পয়:ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিভিন্ন সামগ্রী পাঠিয়েছে।

এইচ ওয়ান এন ওয়ান ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা অজ্ঞাত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লু এইচ ও বলছে যে ২০১০ সালে এইচ ওয়ান এন ওয়ান ভাইরাস সংক্রমণে প্রাণহানির সংখ্যা সরকারীভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও নিবিড়ভাবে গবেষণা চলছে।সরকারী হিসাবে এই মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে আঠারো হাজার বলে নথিভুক্ত থাকলেও ডাব্লু এইচ ও বলছে যে অনেক মৃত্যুর ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ কারণ চিহ্ণিত করা হয়নি।

চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট বলছে যে এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা আগে যা ভাবা হচ্ছিলো আসলে তা এর পনেরো গুণ বেশী হতে পারে। সংস্থার মুখপত্র ফাদেলা সাইব বলেন যে এইচ ওয়ান এন ওয়ান থেকে মৃত্যু হয়েছে এধরণের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে খুব কমই।

এধরণের মৃত্যু সম্ভবত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাজনিত বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন যে এমনকী অনেক দেশেই মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জাকেও মৃত্যুর কারণ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয় নি।

'পশ্চিম তীরে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনীর সংখ্যা বাড়ছে'

অধিকৃত ফিলিস্তিনী এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড ফাল্ক জানিয়েছেন যে পশ্চিম তীরে ইজরায়েলী তৎপরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন ফিলিস্তিনীদের সংখ্যা গতবছরে বেড়েছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। বুধবার এক বিবৃতিতে রিচার্ড ফাল্ক  বলেন যে এবছরে ইজরায়েলী কতৃপক্ষ তিনশো ত্রিশটি ফিলিস্তিনী স্থাপনা ধ্বংস করেছেন এবং এর ফলে যে ৫৩৬ জন ফিলিস্তিনী বাস্তুচ্যূত হয়েছেন তার অর্ধেকই শিশু। তিনি অবিলম্বে ফিলিস্তিনী স্থাপনা ধ্বংস করা বন্ধ রাখার জন্য ইজরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বে প্রতি দুশোজনে একজন মাদকসেবী

মাদক এবং অপরাধ বিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর, ইউ এন ও ডি সি'র বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে বিশ্বে প্রতি দুশোজনে একজন মাদকসেবী। মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০১২ সালের বিশ্ব মাদক প্রতিবেদনে বলা হয় যে মাদকের অপব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ লোকের মৃত্যু ঘটছে এবং গাঁজা হচ্ছে পছন্দের শীর্ষে ।

ইউ এন ও ডি সি'র নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেডোটভ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বলেন যে আন্তদেশীয় সংগঠিত অপরাধ এবং মাদকের কারবার মোকাবেলার বিষয়টিকে উন্নয়ন কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে । মি ফেডোটভ বলেন যে একটি সমন্বিত পন্থায় সব চ্যালেঞ্জগুলো পূরণ করতে হলে আমাদেরকে একইসাথে মাদকের চাহিদা কমাতে হবে। তিনি বলেন যে মাদকের চাহিদা কমাতে ইউ এন ও ডি সি'র কৌশলের ভিত্তি প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুর্নবাসন এবং স্বাস্থ্যগত পরিচর্যার বিষয়সহ আমাদের সব কাজগুলোই মানবাধিকারের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

মঙ্গলবার মাদকের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসে সাধারণ পরিষদে  অনুষ্ঠিত হয় মাদক এবং অপরাধ উন্নয়নের প্রতি হুমকি শীর্ষক বির্তক এবং পরিষদের সভাপতি নাসির আব্দুল আজিজ আল নাসির বলেন যে মাদক এবং অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ক্রমশই হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি বলেন যে অপরাধী চক্রগুলো সহিংসতা ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিতর্কে অংশ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যান কি মুন মাদকের কারবার কিভাবে উন্নয়ন টিকিয়ে রাখার  প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে তার একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে মধ্য আমেরিকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে বিশ্বে সবচেয়ে বেশী হারে খুনের ঘটনা ঘটছে মধ্য আমেরিকায়। আফগানিস্তান এবং মিয়ানমারের কোন কোন অংশে আফিম চাষ এবং অন্যান্য বেআইনী মাদক উৎপাদনের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন যে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা কার্য্যকর হতে পরছে না মাদকব্যবসার কারণে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেআইনী মাদকের প্রসার এবং আন্তদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবেলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয় এই বিতর্কে।

 

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন