১৬:০৭:০২

ডায়াবেটিস মোকাবেলায় খাদ্যাভ্যাস ও উৎপাদনব্যবস্থায় ভারসাম্যের আহ্বান

শুনুন /

বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগ বাড়ার পটভূমিতে জাতিসংঘ মহাসচিব টেকসই খাদ্য উৎপাদন এবং তার ব্যবহার জোরদার করার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন – যার মাধ্যমে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি কমবে।

চৌদ্দই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে বান কি মুন তাঁর বার্তায়  বলেন যে এসব পদক্ষেপ ব্যাক্তিপর্যায়ে উন্নত জীবনযাপন এবং বিশ্বের ভবিষ্যতকে টেকসই করায় ভূমিকা রাখবে।

মহাসচিব বলেন যে ডায়াবেটিস আক্রান্তরা চিকিৎসা না নিলে প্রায়শই হৃদরোগ, ষ্ট্রোক বা কিডনি কাজ না করায় অপরিণত বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং অনেকে প্রতিবন্ধী, অঙ্গহানি বা দৃষ্টিহীনতায় ভোগেন।

বিশ্বে প্রায় পঁয়ত্রিশ কোটি লোক ডায়বেটিসে ভুগছেন।

বিশ্বে এক কোটি ত্রিশ লা স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি : ডাব্লু এইচ ও

জাতিসংঘের এক নতুন রির্পোটে বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট মোকাবেলা করা না গেলে শত শত কোটি মানুষের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

সোমবার প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( ডাব্লু এইচ ও )র এক রির্পোট বলছে যে ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রায় এক কোটি উনত্রিশ লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর ঘাটতি দেখা দেবে, যাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাব-সাহারা অঞ্চল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বার্ধক্যজনিত কারণে অথবা বেশি বেতনের আশায় অনেকের এসব চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এই ঘাটতির কারণ। আবার, এর পাশাপাশি যথেষ্ট সংখ্যক তরূন এই পেশায় আসছেন না অথবা তাঁরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না।

টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জাতিসংঘের ত্রিশ কোটি ডলার সাহায্যের আবেদন

ফিলিপিন্সের টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘ ত্রিশ কোটি দশ লাখ ডলার তহবিল যোগানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এই জ্বলোচ্ছ্বাসে প্রায় এক কোটি দশ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় সাত লাখ লোক বাস্তুচ্যূত হয়েছেন।

জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বলছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরিভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় এবং ওষুধ প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক কার্য্যক্রম সমন্বয়কারী দপ্তর ( ও সি এইচ এ) বলছে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হওয়ায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে যাওয়ার পথগুলোতে ধ্বংসপ্রাপ্ত আবর্জনা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ঐসব অঞ্চলে জরুরি সরবরাহ নিয়ে যাওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেনেভায় ওসিএইচএ'র মুখপাত্র জেন্স লারকে বলেন যে ত্রিশ কোটি দশ লাখ ডলারের এই আবেদন প্রাথমিকভাবে ছয়মাসের প্রয়োজন মেটাবে। মানবিক কার্যক্রমে নিয়োজিত সম্প্রদায় জীবনরক্ষাকারী সাহায্য দেওয়ার কাজ ক্রমশই জোরদার করছেন।

জেন্স লারকে বলেন যে অনেক এলাকা্ই এখনও বিচ্ছিন্ন যেখানে আমরা একটু একটু করে পৌঁছাচ্ছি। অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রয়োজন হচ্ছে স্বাস্থ্য, খাদ্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, পয়ব্যবস্থা এবং আশ্রয়।

নিউমোনিয়াজনিত শিশু মৃত্যু কমায় সাধারণ কিছু পদক্ষেপ

শিশু কল্যাণ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রতি বছর দশ লাখেরও বেশি শিশু এই রোগের কারণে মারা যাচ্ছেন।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল ( ইউনিসেফ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( ডাব্লু এইচ ও)  এবং জিএভিআই অ্যালায়েন্স বলছে যে বিশ্বে মোট শিশুমৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য দায়ী হচ্ছে নিউমোনিয়া।

বারোই নভেম্বর, মঙ্গলবার বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালন উপলক্ষ্যে এই তিনটি সংস্থা এসব মৃত্যু কমানোর সাধারণ উপায়গুলো প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁরা সুপারিশ করছেন ছমাসের জন্য বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখা এবং দুবছর বয়স পর্য্যন্ত বুকের দুধের পাশাপাশি সহায়ক হিসাবে পুষ্টিযুক্ত শক্ত খাবার খাওয়ানো, হামের টিকা খাওয়ানো, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি খাওয়ানো, স্বাস্থ্যসম্মত পয়ব্যবস্থা এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং ঘরের ভিতরে ধঁয়া কমানোর জন্য উন্নতমানের রান্নার চুলা ব্যবহার।

সবার জন্য খাদ্য থাকার পরও ৮৪ কোটি অভুক্ত: এফ এ ও

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও বলছে যে বিশ্বে সবার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য থাকার পরও প্রায় চুরাশি কোটি লোক অভুক্ত থাকছেন।

হোসে গ্রাযিয়ানো ডি সিলভা রোমে তিনদিনের এক সভায় একথা বলেন। এফ এ ও এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও'র যৌথভাবে আয়োজিত উন্নত পুষ্টি এবং খাদ্য ব্যবস্থার রুপান্তর বিষয়ে এই সেমিনার বুধবার শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন যে এটা সুস্পষ্ট যে খাদ্য ব্যবস্থাপনা আজ যে অবস্থায় আছে তা লোকজনের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে র্ব্যথ হয়েছে।

২০১৩ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছরগুলোর অন্যতম

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, ডাব্লু এম ও জানিয়েছে যে ১৮৫০ সালে আধুনিক পদ্ধতিতে রের্কডরক্ষা শুরুর পর থেকে বিশ্বের উষ্ণতম দশটি বছরগুলোর মধ্যে ২০১৩ সাল স্থান করে নিতে চলেছে।

ডাব্লু এম ও তার সর্বসাম্প্রতিক জলবায়ু বিষয়ক অর্ন্তবর্তী রির্পোটে বলা হচ্ছে যে বায়ুমন্ডলে র্কাবন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের ঘনত্ব অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রবণতা উর্ধ্বমুখী রয়েছে।

বায়ুমন্ডলে এসব গ্যাসের উপস্থিতি ২০১২ সালে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং ২০১৩ সালে তা অভূতর্পূব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন