১৫:৪৯:৩৪

বাংলাদেশে পানি বিশুদ্ধকরণে নতুন কৌশল উদ্ভাবন

শুনুন /

জাতিসংঘ শিশু তহবিল, ইউনিসেফ বলছে যে বছরের অধিকাংশ সময়েই বাংলাদেশে পানি পানযোগ্য থাকে না এমনকি তা চাষাবাদেরও উপযোগী নয়।সংস্থা বলছে যে বৃষ্টি না হলে উপকূলীয় নদীগুলো  সামুদ্রিক পানিতে ভরে যায় আর ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যাপকভাবে লবণাক্ত হয়ে থাকে। এই সমস্যা সমাধানে ইউনিসেফ নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সাথে মিলে এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ রেডিওর ডিয়ান পেন ।

বাংলাদেশ যাতে তার পানিসমস্যার সমাধান করতে পারে সেজন্যে জাতিসংঘ শিশু তহবিল প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রায় আটশো নদী ও ঝরণার এই দেশটিতে প্রবহমান পানিসম্পদ বছরের অধিকাংশ সময় ব্যবহারযোগ্য হবে না একথা কল্পনারও অতীত। ইউনিসেফ এর পানি, পয়নিষ্কাশণ এবং পরিচ্ছনতা বা ওয়াশ কর্মসূচির একজন পানি বিশেষজ্ঞ পিটার রেভেন্স ক্রফ।

মি ক্রফ বলেন যে বছরের বর্ষা মওশুমে সর্বত্রই পানি।এমনকি আমরা এখন যেখানে সেই নদীর মাঝখানের পানিও একদম তাজা বা পরিষ্কার।কিন্তু, ছ'মাস পর আপনি এখানে ফিরে আসলে দেখবেন এখানকার পানি তখন লবণাক্ত। ফলে লোকজনকে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাঁদের কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে পানি আনতে হয় অথবা পানি কিনতে হয় – যেটা খুবই ব্যয়বহুল। প্রায়ই দেখা যায় যে তা পানের উপযোগী নয়।

সমস্যাটি সমাধানে ইউনিসেফ নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সাথে মিলে কাজ শুরু করেছে। তাঁরা এমন এক উপায় বের করেছেন যাতে করে বর্ষা মওশুমে তাঁরা পানি ধরে তা মাটির নিচে মজুত করে রাখছেন যা পরে ব্যবহার করা যাবে।বৃষ্টির পানি মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তা থেকে লবণ আলাদা করে ফেলা হচ্ছে যা বর্ষা মওশুম চলে গেলে ব্যবহার করা হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ডঃ কাজী মতিন আহমেদ বলছিলেন যে আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি সেখানে আমরা বাংলাদেশের একটা নতুন গবেষণা শুরু করেছি।এখানে আমরা মাটির নিচে মজুত করে রাখার জন্য পুকুরের পানি এবং বৃষ্টির পানি ব্যবহার করছি।এখানে ঐ পুকুর থেকে পানি নিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। এখানে কূয়ার ভিতরে বালির মধ্য দিয়ে পানি যাচ্ছে এবং সেই পানি ভূ-গর্ভস্থ প্রাকৃতিক আধারে তা মজুত করা হচ্ছে।এটা আমরা করছি কেন? এখানে পানি গুণগত কারণে ব্যবহারযোগ্য নয়। কিন্তু, পরিশোধনের মাধ্যমে আমরা পুকুর এবং বৃষ্টির পানি শোধন করে মাটির নিচে মজুত করছি।তিনবছ  র আগে এখানে লোকজন পানের পানি পেতো না। কিন্তু, এখন এই কুয়া থেকে তাঁরা পানি পাচ্ছেন। দৈনিক প্রায় দুশো মানুষ এখানে এসে খাওয়ার জন্য পানি নিয়ে যাচ্ছেন।

ইউনিসেফ বলছে যে এভাবে সংরক্ষিত পানি অন্য পানির চেয়ে শুধু যে নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ তাই নয় বরং তা মাটির নিচে সংরক্ষিত থাকায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময়ও সহজেই দূষণ থেকে রক্ষা করা যায়। উন্নতমানের পানি মানে উন্নত স্বাস্থ্য বলে গ্রামবাসীরাও বিশ্বাস করেন।

তাঁদেরই একজন চন্দনা রায় বলেন যে আগে আমরা অন্য একটা কুয়ার পানি ব্যবহার করতাম- কিন্তু তা ছিলো নোংরা।ফলে আমরা অসুস্থ থাকতাম। কিন্তু, এখন আমরা এই শুধু নতুন কুয়ার পানি খাই এবং আমাদের আর অসুখ হয় না।

বাংলাদেশে এপর্য্যন্ত মাত্র কুড়িটি জায়গায় এধরণের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হয়েছে। ইউনিসেফ চায় অধিকসংখ্যক মানুষ এই উদ্যোগ থেকে উপকৃত হোক। সেজন্যে, তারা দুশোটি জায়গায় এধরণের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।পিটার ক্রফ বলছেন যে প্রকল্পটি টেকসই করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

মি ক্রফ বলেন যে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে এই যে প্রকল্পটি যেনো এমনভাবে তৈরি হয় যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীই তা পরিচালনা করতে পারে এবং তা আগামী দশ বা কুড়িবছর পর্য়্যন্ত চলতে পারে এমনকি যতোদিন পর্য্যন্ত সরকারীভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না হয়। হাজার হাজার এমনকি লাখ লাখ মানুষের জন্য সরকারীভাবে পানি সরবরাহে এখনও কয়েক দশক লেগে যেতে পারে।

ইউনিসেফ আশা করছে যে এই কৌশল বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল এমনকি বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশে অনুসরণ করা হবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন