টেকসই উন্নয়নের রুপরেখা অনুমোদনের আহ্বান

টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জাতিসংঘ সম্মেলন রিও প্লাস টোয়েন্টি
টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জাতিসংঘ সম্মেলন রিও প্লাস টোয়েন্টি নামে বিশ্বনেতারা তিনদিনের এক শীর্ষবৈঠক শুরু করেছেন যেখানে আশা করা হচ্ছে যে তাঁরা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দারিদ্র দূরীকরণের একটি রুপরেখা অনুমোদন করবেন।
আমরা যেরকম ভবিষ্যত চাই নামের এই খসড়ায় বিশ্বের অনেক পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষার এমন নীতিমালার কথা বলা হয়েছে যার মাধ্যমে শত শত কোটি মানুষকে দারিদ্র থেকে মুক্ত করে আনা সম্ভব হবে।
৮৬ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানসহ ১৯০টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মহাসচিব ব্যান কি মুন।
ব্যান কি মুন বলেন যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা এখন আমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে। আমাদের এই সুযোগ নষ্ট করা উচিৎ হবে না।এসব বক্তব্যকে বাস্তবে রুপায়ণ করা হয় কিনা সেটা দেখার জন্য বিশ্ববাসী আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন যে আমাদেরকে এটা পারতেই হবে।রিও প্লাস টোয়েন্টি শেষ নয় , বরং সূচনা মাত্র।
তিনি বলেন যে এখন আমাদের সবাইকে দীর্ঘমেয়াদে এবং বৈশ্বিক নিরিখে ভাবতে হবে।
'শরণার্থীরা নিরুপায় – আপনি নন'
'শরণার্থীরা নিরুপায় – আপনি নন,' এটিকেই মূলসুর হিসাবে গ্রহণ করে এবছরের বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয় বুধবার বিশে জুন।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি মিনিটে আটজন যুদ্ধ, হয়রানি অথবা সন্ত্রাস থেকে বাঁচার জন্য সবর্স্ব ছেড়ে আসতে বাধ্য হন।
পরপর পঞ্চম বছরের মতো এবছরেও বিশ্বে প্রায় চার কোটি কুড়ি লাখ লোক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত হয়েছেন ।
শরণার্থীদের দূর্ভোগ প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এরকম একজন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জলি বলেন যে কেউই ইচ্ছে করে শরণার্থী হয় না। বর্তমানে বিশ্বে চার কোটি ত্রিশ লাখ লোক বাস্তুচ্যূত।তিনি বলছিলেন যে আমরা তাঁদের স্মরণ করছি।
এদিকে, বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন যে এসব উদ্বাস্তু শুধু পরিসংখ্যান নয় – এঁদের ব্যাক্তি ও পারিবারিক জীবনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে, তাদের সমাজকে ধ্বংস করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন সবজায়গায় বাজেটের সংকট থাকলেও আমরা যেন এঁদেরকে তাঁদের প্রয়োজনের সময় ফিরিয়ে না দেই।
মায়ানমারে মানবিক সহায়তা জোরদার

মায়ানমারে মানবিক সহায়তা জোরদার করছে ইউ এন এইচ সি আর
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর মায়ানমারে মানবিক সহায়তা জোরদার করেছে। প্রায় দু'সপ্তাহ আগে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আকস্মিকভাবে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ইউ এন এইচ সি আরের মুখপত্র, অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন মায়ানমার কতৃপক্ষের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে্ । তিনি বলেন যে ইউ এন এইচ সি আর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশ্রয় সামগ্রী এবং কম্বল, তোশক এবং অত্যাবশ্যকীয় গৃহস্থালি জিনিষপত্রসহ প্রাথমিক সহায়তা দেবে।
ক্ষুধা দূরীকরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব : এফ এ ও
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও বলছে যে ক্ষুধা দূর করতে না পারলে কোন টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন রিও প্প্যাস টোয়েন্টিতে পেশ করার জন্য তৈরি করা এক নীতি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে বিশ্বে এখনও নব্বুই কোটি লোক ক্ষুধার শিকার। এতে বলা হয় যে যেহেতু ২০৫০ সাল নাগাদ আনুমানিক নয়শো কোটি লোকের জন্য খাদ্য উৎপাদন অন্তত ষাট শতাংশ বাড়াতে হবে সেহেতু কৃষিই হবে টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তি। এফ এ ও বলছে যে যেখানে প্রতি সাতজনে একজন পুষ্টিহীনতার শিকার সেই পরিস্থিতিতে কোন উন্নয়নকে টেকসই বলা চলে না।
শিশুদের পুষ্টিঘাটতি মোকাবেলায় উদ্যোগ
টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসাবে শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি মোকাবেলার বিষয়ে সূচিত কর্মসূচি রিচ এর প্রশংসা করেছে জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সংস্থা। রিচ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ডাব্লু এফ পি, ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি কর্মসূচি এফ এ ও এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা , ডাব্লু এইচ ও।
এই কর্মসূচি সম্পর্কে ডাব্লুএফ পির মুখপত্র বেটিনা লুসার বলেন যে ব্যপকভাবে ঋণগ্রস্থ দেশগুলোতে পুষ্টির ঘাটতি মোকাবেলায় বাস্তবভিত্তিক কার্যকরী কৌশল তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। বেটিনা লুসার বলেন যে পুরো বিষয়টি হচ্ছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা যাতে সমস্যাগুলো মোকাবেলায় ভালো প্রকল্প তৈরি করা যায় এবং তা আমলাতান্ত্রিকতার বাইরেই করা যায়।