১৭:৫৬:০৬

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলা যায় না: আইএলও

শুনুন /

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাছে আটতলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন , রানা প্লাজা ধসে এগারোশ' ব্যাক্তির প্রাণহানির ছ'মাস পর দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়েছে এমনটি দাবি করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আই এল ও'র উপ-মহাপরিচালক গিলর্বাট হোংবো।

তবে, মি হোংবো বলেন যে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে অনেকগুলো কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এপর্য্যন্ত ঠিক কি কি কাজ করা হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইএলও'র উপ-পরিচালক  মি হোংবো জাতিসংঘ রেডিওকে বলেন যে এই দূর্ঘটনার পরপরই আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার দ্রুত তাঁকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন এটা যাচাই করার জন্য যে স্থানীয় কতৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে সেখানকার সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশের সরকার ও বাংলাদেশীদেরকে কিধরণের সহায়তা দেওয়া যায়।

মি হোংবো বলেন যে এরপর থেকে অনেককিছুই হয়েছে। গত ১৫ই জুলাই তাঁরা একটি নতুন শ্রম আইন পাশ করেছেন। আমরা অবশ্য এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। তবে এটা আমরা স্বীকার করি যে আইনের অনেকটা উন্নতি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ৮ই জুলাই কমপ্যাক্ট নামে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে – যার মাধ্যমে সরকার অনেকটাই দায়িত্ব নিয়েছে এবং তারা সেগুলো পালনে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।

মি হোংবো বলেন যে ইউনিগ্লোবাল এবং ইন্ডাষ্ট্রিঅল নামের আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন এর সাথে স্বাক্ষরিত হয়েছে অ্যাকর্ড নামের একটি সমঝোতা যাতে একশোর মতো কোম্পানি অংশ নিচ্ছে – যেসব কোম্পানির অধিকাংশই ইউরোপের – তবে সবাই ইউরোপের নয়। এরপর উত্তর আমেরিকার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে হয়েছে অ্যালায়েন্স।এর সাথে রয়েছে আইএলও'র কারখানা পরিদর্শনের কার্য্যক্রম।

আইএলও'র কার্য্যক্রম এর প্রধান প্রধান দিকগুলো সম্পর্কে মি হোংবা বলেন আমরা যে কর্মসূচি শুরু করছি তার মূলত চার-পাঁচটি প্রধান অংশ রয়েছে এবং এর একটা বড় দিক হচ্ছে কারখানাগুলো পরিদর্শনের কাজ শুরুর বিষয়। প্রায় পাঁচ থেকে ছয়শো কারখানায় এই কাজে অ্যালায়েন্সের একজন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।অ্যার্কডে যে শতাধিক কোম্পানি এবং ইন্ডাষ্ট্রিঅল ও ইউনিগ্লোবাল অংশ নিচ্ছে তারা প্রায় পনেরোশ থেকে ষোলশ' কারখানা পরিদর্শনের কাজ করবে। সুতরাং, আইএলও সাড়ে তিন হাজার কারখানার অবশিষ্টগুলো পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করবে। সংক্ষেপে বলা যায় যে সংকেতের বাতি জ্বলছে, গেট খুলে গেছে এবং ট্রেন এখন যাত্রা শুরু করবে।

প্রকৃতপক্ষে আরও কতোটা কাজ বাকী আছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইএলও'র উপ-প্রধান মি হোংবো বলেন যে অনেক কাজ করতে হবে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানা সচল আছে। এগুলোর সবই পরিদর্শনের অপেক্ষায়। ভবনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়ে দক্ষতা আইএলও'র বিশেষত্ব নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বুয়েট, প্রকৌশলীরা সবার সাথে মিলে আমরা কাজ করছি যাতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য সক্ষমতা গড়ে তোলা – শ্রম পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণ।আইন প্রয়োগের এই প্রক্রিয়াকে দূর্নীতিমূক্ত করা প্রয়োজন।

মি হোংবো বলেন এর পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং মালিক সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা  গড়ে তোলায় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বর্পূণ। এই কাজে সব পক্ষের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলেও মি হোংবো মন্তব্য করেন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন