১৭:৪৫:৪২

সীসাযুক্ত রং নিষিদ্ধ করার জন্য ডাব্লু এইচ ও'র আহ্বান

শুনুন /

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বলছে যে সীসাজনিত দূষণে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে , বিশেষ করে শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে যাদের অনেকেরই মস্তিষ্কে অপরিবর্তনীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও বলছে যে উচ্চ হারে সীসা দূষণের শিকার শিশুদের নিরানব্বুই শতাংশই নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশের। এসব দেশে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ শিশু সীসার সংস্পর্শে আসার কারণে আজীবন মস্তিষ্কে প্রতিবন্ধ্যাত্বের শিকার হয়।

শিশু-কিশোরদের বিষাক্ত দূষণের শিকার হওয়ার অন্যতম এক প্রধান উৎস হচ্ছে সীসাযুক্ত রং যা প্রতিটা বাড়িতে খেলনা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিষপত্রে পাওয়া যায়।

কুড়ি থেকে ছাব্বিশে অক্টোবর আন্তর্জাতিক সীসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ পালনের প্রাক্কালে ডাব্লু এইচ ও সীসাযুক্ত রং নির্মূল করায় জাতীয় পর্য়্যায়ে কার্য্যক্রম জোরদার করার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থার জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ বিষয়ক পরিচালক ডঃ মারিয়া নিরা বলেন যে উচ্চমাত্রায় সীসার সংস্পর্শে আসলে আসলে তা মস্তিষ্ক এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার দরুণ অচেতন হয়ে পড়া, খিঁচুনি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

ডঃ নিরা বলেন যে সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হোল যেসব শিশু এরকম অবস্থার শিকার হয়ে বেঁচে যাবে, তাদের বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের আচার-আচরণ চিরতরে বদলে যাবে।

সীসার বিষক্রিয়ায় বিশ্বে বছরে প্রায় এক লাখ তিতাল্লিশ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় বলে সংস্থার অনুমান।

বায়ুদূষণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে : আই এ আর সি

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা, আই এ আর সি বলছে যে আমরা নিশ্বাসে যে বায়ু গ্রহণ করছি তা ক্যান্সার রোগের কারণ ঘটায় এমন বিভিন্ন বস্তুকণার সংমিশ্রণে ভরা।

সংস্থা বলছে যে বায়ুদুষণের কারণে শ্বাসতন্ত্র এবং হৃদযন্ত্রের রোগসহ নানাধরণের অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ার কথা আমরা জানলেও সাম্প্রতিক গবেষণাসমূহে ইঙ্গিত মিলছে যে বাইরের বাতাসে দূষণের কারণে ফুসফুস এবং মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে।

সংস্থা বলছে যে বায়ুদূষণের কারণে ২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী ফুসফুসের ক্যান্সারে ২,২৩,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

নারীদের বিনা মজুরির পরিচর্য্যামূলক কাজের স্বীকৃতির সুপারিশ

জাতিসংঘের একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রান্না, শিশুচর্য্যা এবং বিনা পারিশ্রমিকের অন্যান্য যেসব কাজ বিপুলসংখ্যক নারীরা করে থাকেন সেগুলোকে মূল্য দেওয়ার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চরম দারিদ্র বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ম্যাগডালেনা সেপুলভেদা বলেছেন যে এসব কাজ যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে তথাপি সেগুলোর কোন স্বীকৃতি নেই, সেগুলোকে কোনধরণের সাহায্য দেওয়া হয় না বা কেউ তার অংশীদার হয় না।

জাতিসংঘ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার বিনা পারিশ্রমিকের এসব পরিচর্য্যামূলক কাজের দায়িত্ব বিভাজনে বৈষম্যকে একটি মানবাধিকারের ইস্যু হিসাবে মিস সেপুলভেদা বর্ণনা করেন।

তিনি প্রাক-স্কুল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো জনসেবার বিষয়গুলোতে রাষ্ট্রগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করে বলেন যে এগুলো নারীদের বিনামজুরির পরিচর্য্যামূলক কাজের চাপ লাঘবে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য দিবসে টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও বলছে যে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতা মোকাবেলার মূলে রয়েছে একটি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা।

বুধবার বিশ্ব খাদ্য দিবসে এক বার্তায় এফ এ ও'র প্রধান হোসে গ্রাযিয়ানো ডি সিলভা বলেন যে স্বাস্থ্যবান লোক টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার দক্ষ এবং সুব্যবস্থাপনা  বহুমুখী এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের যোগান দেয় যেটা ক্ষুধা এবং পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য আমাদের প্রয়োজন। একইসাথে এটা প্রাকৃতিক সম্পদকেও রক্ষা করে।

এবছরের বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির জন্য টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা। ১৯৪৫ সালে এফ এ ও প্রতিষ্ঠার দিন ষোলোই অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়ে থাকে।

সংঘাত নিরসনে নারী নেতৃত্ব গুরুত্বর্পূণ : জাতিসংঘ

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউ এন উইমেন এর প্রধান, ফুমযিলে ম্লামবুংকা জানিয়েছেন যে শুক্রবার নারী নেতৃত্বকে সংঘাত নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কেন্দ্রে রেখে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

সংঘাতপীড়িত এলাকায় নারী, আইনের শাসন এবং রুপান্তরকালীন বিচারবিব্যবস্থা বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় ফুমযিলে ম্লামবুংকা বলেন যে সংঘাত নারীদের ওপর কিধরণের প্রভাব ফেলতে পারে তা বোঝার জন্য এবং সংঘাত নিরসনে নারীর অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের বিষয়ে আরো নজর দেওয়া উচিৎ।

ফুমযিলে ম্লামবুংকা বলছিলেন যে এই প্রস্তাবটি হচ্ছে নারী নেতৃত্ব এবং শান্তি গড়ে তোলার বিষয়ে। শান্তিপ্রতিষ্ঠার আলোচনায় নারীদের আসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা এবং সদস্য দেশগুলো- আমাদের সবার ওপর অর্পণ করেছে।

তিনি বলেন যে শান্তি আলোচনায় শুধুমাত্র নারীদের অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়, বরং, শান্তিসম্পর্কিত সব সিদ্ধান্ত নারী অধিকারের ওপর কিধরণের প্রভাব ফেলবে তার লৈঙ্গিকবিশ্লেষণ বিবেচনাও প্রয়োজন।

শিশুদের ওপর সহিংসতা রোধের আইনগুলোতে ফাঁক আছে

জাতিসংঘের একজন কূটনীতিক বলেছেন যে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে অনেক আইন এবং নীতিমালা গৃহীত হওয়া সত্ত্বেও অনেকক্ষেত্রে ফাঁক-ফোকর রয়ে গেছে।

শিশুদের ওপর সহিংসতা বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মারটা স্যান্টোস পেইস বলেন যে ছেলেদের যেরকম সুরক্ষা দেওয়া হয় মেয়েদের সেই একইরকম সুরক্ষা দিয়ে আইন করা হয়েছে এমন দেশ 'খুবই বিরল'।

শিশুদের ওপর সহিংসতা বিষয়ে একটি বৈশ্বিক জরিপ প্রকাশ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার স্যান্টোস পেইস এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন