১৯:৫৩:৪৪

গণোরিয়া বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

শুনুন /

যৌনরোগ গণোরিয়া বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে – তার কারণ এর চিকিৎসায় একমাত্র যে এন্টিবায়োটিক ওষুধ পাওয়া যায় তা আর কাজ করছে না।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লু এইচ ও বলছে যে অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশ থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে গণেরিয়ার চিকিৎসায় শেষ ভরসা যে ওষুধ – সেই কেফালোস্পোরিন এন্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না।

সংস্থা বলছে যে চিকিৎসা ব্যর্থ্য হবার প্রধান কারণ এই এন্টিবায়োটিকের ভুল প্রয়োগ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডঃ মঞ্জুলা লাষ্টি নরসিমহা বলেছেন যে গণেরিয়ার চিকিৎসা না করা গেলে গেড়ে বছরে এর সংক্রমণের শিকার প্রায় দশ কোটি ষাঠ লাখ লোক বড়ধরণের সাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

নারী এবং পুরূষেরা প্রজননক্ষমতা হারাবে, গর্ভবতী মায়েদের আকস্মিক গর্ভপাত ঘটতে পারে – যাতে করে মাতৃমৃত্যুর আশংকা বাগবে।

গণোরিয়া আক্রান্ত মায়েরা যেসব শিশু জন্ম দেবে সেসব শিশুদের অর্ধেকেরও বেশী চোখে মারাত্মক সংক্রমণের শিকার হতে পারে – যাদের অনেকেই শেষপর্যন্ত অন্ধত্ব বরণ করবে।

ডঃ মঞ্জুলা লাষ্টি নরসিমহা বলেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বৈশ্বিক কার্য্যক্রম হাতে নিয়েছে যাতে অধিকতর নজরদারির আহ্বান জানিয়ে রোগ চিহ্নিত করার ল্যাবরেটরির ক্ষমতা  এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন যে এর চিকিৎসার জন্য আর গবেষণার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে কেননা তাঁদের আর কোন বিকল্প নেই।

'টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি সামান্যই'

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী ইউ এন ই পি এক রিপোর্টে বলেছে যে যেসব নীতিতে সাফল্য আসছে সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন জোরদার করার মাধ্যমেই কেবল ধারণযোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। জিও ফাইভ নামে পরিচিত গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট আউটলুক নামের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে নগরায়ন, ভোগবাদিতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি বিশ্বের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।

আর সেকারণেই সরকারগুলোকে টেকসই কৌশল গ্রহণে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। ইউএন ইপির উপ-পরিচালক ক্যান ডাস্ক বলেন যে জিও ফাইভ অনুযায়ী মানবকল্যাণ এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সহায়ক পাঁচশোরও বেশী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমঝোতা সত্ত্বেও বিশ্ব এমন উন্নয়ন পথে ধাবিত হচ্ছে যা টেকসই হবে না।

জিও ফাইভ নব্বুইটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের বিষয় পর্য্যালোচনা করে দেখেছে যে মাত্র চারটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন এগুলো হচ্ছে জ্বালানী থেকে সীসা অপসারণ, পানি সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক এবং ওজন গ্যাসের দূষণ কমানো।

পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির কৌশল নিন : ব্যান

বিশ্বনেতারা যেন তাঁদের অর্থনীতিগুলোতে টেকসই উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যান কি মুন তাঁদের প্রতি সেই আহ্বান জানিয়েছেন। শিল্পোন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জোট জি টোয়েন্টি সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক সাধারণ পরিষদের এক রুদ্ধদ্বার সভায় মঙ্গলবার তিনি এই আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মুখপত্র মার্টিন নেসিরকি জানান যে আগামী ১৮ ও১৯ শে জুন মেক্সিকোর লস ক্যাবোসে অনুষ্ঠিতব্য ঐ শীর্ষসম্মেলনে মহাসচিব জি টোয়েন্টি নেতাদের প্রতি শুধু তাঁদের নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে সবার অভিন্ন মঙ্গলের দিকে নজর দেবার আহ্বান জানাবেন।মহাসচিব বলেছেন যে একটি নতুন বিশ্বমন্দা এড়াতে হলে বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা মোকাবেলায় আমাদের একটি শক্তিশালী এবং সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। আমাদের এমন প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন যা টেকসই উন্নয়নকে পরিচালনা  করবে।

তিনি বলেন যে বিশ্বব্যাপী যে উদ্বেগ তৈরী হয়েছে তার পাশাপাশি একটা সুযোগও আসছে টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে আসন্ন রিও প্লাস টোয়েন্টি সম্মেলনে। পৃথিবীর সীমিত সম্পদকে বিবেচনায় নিয়ে আরো ন্যায়ভিত্তিক , আরো সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য পদক্ষেপ নির্ধারণের সুযোগ এস দেবে এই সম্মেলন।

জবরদস্তি শ্রমশোষণ বন্ধে ব্যবস্থা নেবার আহ্বান

বিশ্বের সর্বত্র সরকার, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি জবরদস্তিমূলক শ্রমের ব্যবহার বন্ধে জরুরীভিত্তিতে পদক্ষেপ সেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছে আন্তির্জাতিক শ্রম সংস্থা আই এল ও। আই এল ও তার সর্বসাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে যে বিশ্বে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি দশ লাখ লোক জবরদস্তিমূলক শ্রমশোষণ বা দাসত্বের শিকার।

আই এল ওর মুখপত্র , গুবরে বারহান বলেনে যে এই দুই কোটি  বা দুই কোটি একুশ লাখ জবরদস্তি শ্রমশোষণের শিকার নারী, পুরুষ এবং শিশুরা একে অন্যের তুলনায় ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন – যার মধ্যে কেউ কেউ কার্য্যত দাসত্বের অবস্থায় রয়েছে – যাদের ওপর একধরণের মালিকানা রয়েছে।অনেকসময়েই তা আন্ত:সীমান্ত বা দেশের ভিতরেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মানবপাচার থেকে আলাদা।

জবরদস্তি শ্রম বিষয়ে আই এল ও র সংজ্ঞা অনেক বিস্তৃত এবং এসবকিছুই এই সংজ্ঞায় পড়ে। শুধুমাত্র জবরদস্তিমূলক বিয়ে এবং মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচার উদ্দেশ্যে যেসব মানবপাচারের ঘটনা ঘটে সেগুলো এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয়।    কোন অঞ্চলে এই জবরদস্তিমূলক শ্রমশোষণের ঘটনা বেশী ঘটছে জাতিসংঘ রেডিওর এই প্রশ্নের জবাবে আই এল ও মুখপত্র বলেন যে আঞ্চলিক অবস্থানের বিবেচনায় দুধরণের মানদন্ডে দুরকম হিসাব পাওয়া যাচ্ছে।

সংখ্যার দিক থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এই সমস্যা ব্যাপকতর এবং সেখানে এই সংখ্যা প্রায় এক কোটি দশ লাখ। আর জনসংখ্যার অনুপাতে এধরণের শ্রমশোষণের ঘটনা বেশী দেখা যাচ্ছে মধ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব  ইউরোপ এবং সাবেক পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে – যেখানে প্রতি একহাজার লোকের বিপরীতে জবরদস্তি শ্রমশোষণের হার চার দশমিক চার জন। আই এল ওর মুখপত্র , গুবরে বারহান বলেন যে জবরদস্তি শ্রমবিষয়ে কোন দেশেই জাতীয়ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না এবং সেকারণে অনেক সংখ্যক জবরদস্তি শ্রমশোষণের শিকার হিসাবের বাইরে থেকে যেতে পারেন। আই এল ওর এই হিসাব অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের সংকলন বলেও তিনি জানান।

এই সমস্যা মোকাবেলায় কী করা উচিৎ এমন এক প্রশ্নের জবাবে মুখপত্র বলেন যে এই সংখ্যায় বলে দেয় যে বিষয়টিতে জরুরীভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এখানে আমাদের প্রধান বার্তাই হচ্ছে যে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আর কোন সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই।আধুনিককালের দাসত্বের অবসান ঘটাতে সরকারগুলোকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আই এল ও হুঁশিয়ারী দিয়েছে যে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে ।

 

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন