১৯:২৭:৩২

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কাজের পরিবেশ উন্নয়ন সমন্বয়ে আই এল ও

শুনুন /

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমপরিস্থিতি এবং কারখানার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভবনের নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে দুই কোটি চব্বিশ লাখ ডলারের একটি ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের অন্য শরীকরা হোল নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য এবং কানাডা।

গত এপ্রিলে বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সহস্রাধিক ব্যাক্তির প্রাণহানির পটভূমিতে দেশটির পঁয়ত্রিশ লাখ পোশাকশ্রমিকের কাজের পরিবেশ উন্নয়নে জাতিসংঘের এই সংস্থা তার সহযোগীদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। পোশাকশিল্প বাংলাদেশের প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার রপ্তানির প্রধান উৎস।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত আইএলও'র মহাপরিচালক গাই রাইডার জাতিসংঘ রেডিওর সংবাদদাতা ডিয়ান পেনকে বলেন যে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ায় তাঁর সংস্থা আনন্দিত।

মি রাইডার বলেন যে দূর্ভাগ্যজনক বিভিন্ন দূর্ঘটনা যেগুলোর কথা আমরা সবাই সংবাদপত্রে পড়ে থাকি , যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম দূর্ঘটনা – রানা প্লাজা – এগুলো মোকাবেলায় এটি হচ্ছে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ।এধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা একটা ব্যপকভিত্তিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছি।

মি রাইডার বলেন যে বাংলাদেশের শ্রম আইনকে আই এল ও'র মানে উন্নীত করতে হবে – এবং সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ গত জুলাইতে তাদের শ্রম আইনে কিছু পরিবর্তন এনেছে।আমরা মনে করি আরো পরিবর্তন প্রয়েজেন।

মি রাইডার বলেন যে প্রয়োজন শ্রম পরিদর্শকের। যখন রানা প্লাজার দুর্ঘটনা ঘটে তখন বাংলাদেশে মাত্র পঞ্চান্নজন কারখানা পরিদর্শক ছিলেন যেই সংখ্যকের পক্ষে ওই দায়িত্বপালন সম্ভব নয়।কারখানার কাঠামোগুলো যে টেকসই সেটা যাচাই করার জন্য ভবনগুলোর প্রকৌশলগত গুণাগুণ নিরীক্ষা প্রয়োজন এবং আমরা সেটা করছি।

মি রাইডার বলেন যে সবচেয়ে কঠিন হলেও কম গুরুত্বর্পূণ নয় যে আরেকটি বিষয়, তাহোল সরকার, কারখানা মালিক এবং শ্রমিকদের একসাথে কাজ করা যাতে এই খাতে উন্নয়নের অনুকূল একটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয় এবং এই চুক্তিতে এগুলোর সবকিছু অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

পরিদর্শকদের নিযোগের মতো বিষয়গুলোর জন্য কোন সময়সীমা আছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মি রাইডার বলেন যে আমাদের লক্ষ্য প্রথমেই পরিদর্শকদের বিষয়ে – সরকার অঙ্গীকার করেছে যে চলতিবছর শেষ হওয়ার আগেই দুশো পরিদর্শক প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগের কাজ তাঁরা শেষ করবেন এবং আমরা আশা করছি সেটা সম্ভব হবে।

মি রাইডার বলেন যে এটা আমরা তাড়াতাড়ি করতে চাই এবং খুব তাড়াতাড়িই তা করবো।কারখানা ভবনগুলোর কাঠামোগুলো কতোটা টেকসই তা যাচাইয়ের কাজ – আমরা জানি যে বাংলাদেশে কারখানাগুলো আবাসিক এলাকাগুলোতে ছড়ানো-ছিটানো আছে এবং ঢাকায় এমন অনেক আবাসিকভবনে কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেটি ওই উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়নি।

মি রাইডার বলেন যে আরও প্রাণহানি যাতে না ঘটে সেজন্যে এই জরীপের কাজটি দ্রুত সম্পণ্ন করা জরুরি। শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে যোগাযোগের নতুন পদ্ধতি এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা একটু সময়ের ব্যাপার।

আইএলও'র মহাপরিচালক গাই রাইডার

মি রাইডার বলেন যে এটা আমাদের এখনই শুরু করতে হবে – হয়তো কিছুটা সময় লাগবে তবে, আমরা সেখানে কিছুদিনের জন্য লেগে থাকবো।

রানা প্লাজার মর্মান্তিক র্দুঘটনার পর দেশটিতে অনেকগুলো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে – কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতোটা ঘটছে? নাকি সবকিছু অগোছালোভাবেই চলছে? এপ্রশ্নের জবাবে এই এল ও প্রধান গাই রাইডার বলেন যে অনেকগুলো উদ্যোগ সেখানে নেওয়া হয়েছে, তার কারণও বোধগম্য। আমরা বিশ্বাস করি যে এসব ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় অবশ্যই প্রয়োজন।

মি রাইডার বলেন যে আমরা চাইনা বিশৃঙ্খলভাবে কাজ হোক অথবা একই কাজের পুনরাবৃত্তি হোক, কিম্বা কোথাও শূণ্যতা থেকে যাক।তিনটি সরকার এই সপ্তাহে এই চুক্তিতে সই করেছে এবং তারা সম্পষ্ট করে বলেছে যে তারা চায় আই এল ও এখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করুক।তবে জটিলতার কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বর্পূণ সংযোগ।

মি রাইডার বলেন যে সম্ভবত আমরা যে কাপড়গুলি পরছি আমাদের মধ্যেই কোথাও না কোথাও বাংলাদেশে তৈরি পোশাক আছে। এটা খুবই উৎসাহজনক যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনগুলো এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক আনে যেসব ব্র্যান্ড তাদের অনেকেই দায়িত্ব নিয়ে একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।

মি রাইডার বলেন যে অ্যার্কড নামের একটি চুক্তিতে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর ভবন এবং আগুনের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে দুটো বৈশ্বিক ট্রেড ইউনিয়ন এবং আশিটির মতো ব্রিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যাদের অনেকেই ইউরোপের, কেউ কেউ এশিয়ার এবং আমেরিকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁরা যে অঙ্গীকার করছেন তা বলবৎযোগ্য অঙ্গীকার।

মি রাইডার বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে – অ্যালায়েন্স নামে।অনেকেই ভালো ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন যেগুলোর উদ্দেশ্য মহান। এগুলোর ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রয়োজন এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এক্ষেত্রে আই এল ও'র দায়িত্ব কিছুটা আছে এবং সেই ক্ষমতাও আছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন