১৬:২১:৪১

সিরীয় সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য মহাসচিব বানের আহ্বান

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে সিরীয় সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য তিনি চাপ অব্যাহত রাখবেন। বৃহস্পতিবার রাশিযার সেন্ট পির্টাসবার্গে শুরু হওয়া র্শীষস্থানীয় অথর্নীতিগুলোর জোট জি টোয়েন্টির র্শীষবৈঠকের প্রাক্কালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন যে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ঝুঁকির মুখে, গণতন্ত্র হুমকির মুখে এবং বৈধ আন্দোলন ও প্রতিবাদ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক প্রাণহানির উল্লেখ করে মি বান বলেন যে এর ফলে লাখ লাখ লোক বাস্তুহারা হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

মি বান বলেন যে সর্বসাম্প্রতিক সহিংসতায় রাসায়নিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে – জাতিসংঘ তদন্তকারী দল যদি এটা নিশ্চিত করে তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের ঘৃণ্য লংঘন।

মি বান বলেন যে আমি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছি। অস্ত্রের প্রবাহ এবং সামরিকীকরণ শুধু রক্তই ঝরাবে।

মি বান বলেন যে সবপক্ষের জন্য এখন লড়াই বন্ধ করে আলোচনা শুরুর সময় এসেছে।

সিরীয় শরণার্থী  শিশুর সংখ্যা একবছরে বেড়েছে দশগুণ : ইউনিসেফ

সিরীয় শরণার্থী সংখ্যা কুড়ি লাখ অতিক্রম করার পাশাপাশি এর প্রায় অর্ধেক সংখ্যক শিশুর জীবনরক্ষায় ইউনিসেফ প্রতিবেশী জর্ডান, লেবানন, তুরস্ক, ইরাক এবং মিশর ছাড়াও সিরিয়ার ভিতরেও বাস্তুচ্যূতদের জন্য জরুরি ত্রাণ কার্য্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

ইউনিসেফের হিসাবে সিরীয় শরণার্থী  শিশুর সংখ্যা একবছরে সত্তুর হাজার থেকে দশগুণেরও বেশি বেড়ে দশ লাখ ছাড়িয়েছে।সাম্প্রতিককালে দৈনিক আড়াই হাজার সিরীয় শিশু সীমান্ত পার হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক, মারিয়া কালিভিস বলছেন ইউনিসেফের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম মানবিক সহায়তা কার্য্যক্রম।ইউনিসেফ আঞ্চলিক সহায়তার জন্য সাতচল্লিশ কোটি ডলার তহবিলের আবদন জানিয়েছিলো এবং এখন তাদের আরও সতেরো কোটি ডলার প্রয়োজন।

শুধুমাত্র অভিবাসীদের জন্য রাষ্ট্র গড়লে তা হোত পঞ্চম জনবহুল দেশ

বিশ্বে বর্তমানে অভিবাসীর সংখ্যা সাড়ে একুশ কোটি এবং সব অভিববাসীকে নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠিত হলে তা হোত বিশ্বের পঞ্চম জনবহুল দেশ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই এসব বিস্ময়কর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেছেন যে ব্যাক্তি হিসাবে এঁরা র্পূণ মানবাধিকার ভোগ করেন না।

আগামী অক্টোবরে নিউইর্য়কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে অনুষ্ঠিতব্য র্শীষসম্মেলনের প্রস্তুতিসভায় মিস পিল্লাই বলেন যে অভিববাসন শুধু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণেই ঘটে না এটা একটা মৌলিক মানবিক প্রক্রিয়া যাতে বৈশ্বিক বৈষম্যের প্রতিফলন রয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সবধরণের নাগরিক সেবায় অভিবাসীদের অধিকারের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলছে অবৈধ অভিবাসীরা রয়েছেন সবচেয়ে ঝুঁকির্পূণ অবস্থায়।

কর্মসংস্থানে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জি টোয়েন্টির প্রতি আহ্বান

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও'র মহাপরিচালক, গাই রাইডার শাক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর জোট জি টোয়েন্টির প্রতি আরো বেশি সংখ্যায় এবং উন্নতমানের চাকরি সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এজন্যে ভোক্তাদের মধ্যে চাহিদা তৈরি এবং প্রবৃদ্ধি জোরদার করার নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মি রাইডার বলেন যে আমার মনে হয় এটা বলা যৌক্তিক যে জি টোয়েন্টির প্রত্যেকটি দেশই কর্মসংস্থানের বিষয়ে বড়ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এবং অনেকের ক্ষেত্রেই সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে যেগুলো এই কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের সাথে সম্পৃক্ত।

মি রাইডার বলেন যে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া এই অবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম এবং সেই সিদ্ধান্ত এখনই এই পির্টাসর্বাগেই হওয়া প্রয়োজন।

গৃহভিত্তিক সৌর বিদ্যূৎ ব্যবস্থার র্শীষ বাজার বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক বলছে যে গৃহভিত্তিক সৌর বিদ্যূৎ ব্যবস্থার দ্রুততম প্রসার ঘটছে যে বাজারে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ।

ব্যাংক বলছে যে সৌর শক্তি যে দেশটিতে শুধু ব্যয়বহুল জ্বালানির জায়গাটি দখল করছে তা নয় বরং তা নারীর ক্ষমতায়নের মতো সামাজিক পরিবর্তনেও সহায়তা করছে।

প্রাপ্ত হিসাব দেখা যাচ্ছে দেশটিতে এখন মাসে অন্তত ষাট হাজার পরিবার তাদের বাড়িতে সৌরবিদ্যূতের ব্যবস্থা করছে।

শত শত কোটি মানুষ এখনও  ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি, ভূক জেরেমিচ বলেছেন যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ইন্টারনেটের সম্প্রসারণ ঘটলেও বিশ্বে শত শত কোটি মানুষ এখন এর সাথে সংযুক্ত হতে পারেন নি।

বুধবার জাতিসংঘে আজারবাইজানের স্থায়ী মিশনে 'ইউরেশিয়ায় সংযোগ উন্নয়ন' র্শীষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে মি জেরেমিচ একথা বলেন।

তিনি বলেন যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখন প্রায় কুড়ি শতাংশে বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে যেসংখ্যাটি কয়েকবছর আগেও ছিলো মাত্র তেরো শতাংশ।

তিনি জানান যে উন্নত দেশগুলোতে প্রায় ৭৮ শতাংশ গৃহ ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড সংযোগের সুফল পাচ্ছেন।

ভুক জেরেমিচ বলেন যে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে এবং বিশ্বে উচ্চ আয় এবং স্বল্প আযের দেশগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্য বিস্তৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন যে তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আই সি টি এই প্রবণতাকে বদলে দিতে পারে যাতে করে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠী অনেকগুলো কালক্ষেপণকারী পদক্ষেপ এড়িয়ে সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে পারে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন