১৬:১৫:৩৩

গৃহভিত্তিক সৌর বিদ্যূৎ ব্যবস্থার র্শীষ বাজার বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংক

শুনুন /

বিশ্বব্যাংক বলছে যে গৃহভিত্তিক সৌর বিদ্যূৎ ব্যবস্থার দ্রুততম প্রসার ঘটছে যে বাজারে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যাংক বলছে যে সৌর শক্তি যে দেশটিতে শুধু ব্যয়বহুল জ্বালানির জায়গাটি দখল করছে তা নয় বরং তা নারীর ক্ষমতায়নের মতো সামাজিক পরিবর্তনেও সহায়তা করছে।

গ্রামীণ বাংলাদেশের আর দশটা পরিবারের মতোই মোসাম্মৎ ফরিদার বাড়িতেও কোন পানি, বিদ্যূৎ বা গ্যাসের সংযোগ নেই। বাড়িতে তাঁর নিজেদের বসানো চাপকল।সম্প্রতি তিনি কিনেছেন বাড়ির উপযোগী সৌরবিদ্যূৎ ব্যবস্থা – যাতে করে একটা টেলিভিশন এবং ছোটখাটো বৈদ্যূতিক সরঞ্জাম চালানো যায়।

মোসাম্মৎ ফরিদা বলেন, এখন আমরা টিভি দেখতে পারি, সেলফোন র্চাজ করি, সিডি বাজাতে পারি , এমনকি বৈদ্যূতিক পাখাও চালাতে পারি।

বাংলাদেশে নদী আছে অনেক এবং জমিও কিছুটা নিচুতে; যার ফলে ব্যাপকভিত্তিক বিদ্যূৎ গ্রিড গড়ে তোলা কঠিন। সুতরাং, সমাধান হচ্ছে সৌর বিদ্যূৎ।

ছোট ছোট সৌর বিদ্যূৎ কেন্দ্র দিয়ে চলছে হাসপাতাল এবং স্কুল। স্যোরবিদ্যূৎ প্যানেল এর তৈরি জ্বালানি দিয়ে চলছে সেচপাম্প। কুড়ি লাখেরও বেশি পরিবার আলাদা আলাদাভাবে সৌরপ্যানেল বসিয়ে তা কাজে লাগাচ্ছেন। ফলে, গৃহপর্যায়ে সৌর বিদ্যূৎ ব্যবস্থা বসানোর ক্ষেত্রে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল বাজার হচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে সৌর বিদ্যূৎ শুধু যে জীবনযাপনকে সহজ করে দিয়েছে তাই নয়, বরং, পুরোনোদিনের যন্ত্রপাতি এবং বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল কেরোসিনের বদলে সৌরবিদ্যূৎ অনেক সাশ্রয়ী।

আগেকার দিনে গ্রামাঞ্চলে কেরোসিনের বাতিটি সংরক্ষিত থাকতো বাড়ির ছেলেটির জন্য যাতে সে পড়ালেখা করতে পারে। কিন্তু, এখন সেই ব্যবস্থা পাল্টাচ্ছে:

যেমনটি বলছিলেন শিক্ষক আলাউদ্দিন, ''আগেকার দিনে লোকজন তাদের মেয়েদেরকে পড়াশোনা করানোয় আগ্রহী হোত না। এটা তাদের জন্য খুব ব্যয়বহুল বলে মনে করা হোত এবং তাঁরা শুধু ছেলেদের কথা ভাবতেন। কিন্তু, এখন সৌরবাতি ব্যবহারের কারণে খরচ কমেছে। তাঁরা ছেলে এবং মেয়ে উভয়কে লেখাপড়া শেখাতে পারছেন''।

দশবছর বয়েসী কুসুমকলি একটা সাদামাটা বাড়িতে তার পরিবারের সাথে বাস করে যেখানে সৌরবিদ্যূৎ ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। সে এখন সৌরবাতির আলোয় নিয়মিত তার বাবার কাছে ইংরেজি শেখে:

কুসুমকলি বলছিলো যে আমরা এখন অনেক ভালো করে লেখাপড়া করতে পারি। সৌরবাতি আমাদের লেখাপড়ায় অনেক সুবিধা করে দিয়েছে।

বাংলাদেশে এখন কুসুমের মতো আরো অনেক মেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কেননা, দেশটিতে এখন মাসে অন্তত ষাট হাজার পরিবার তাদের বাড়িতে সৌরবিদ্যূতের ব্যবস্থা করছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন