১৬:৪০:৩৫

যেকোন পরিস্থিতিতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার মানবতাবিরোধী অপরাধ: বান

শুনুন /

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তরত জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের রির্পোট আগামী শনিবার হাতে পাবার আশা করছেন মহাসচিব বান কি মুন।

অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বৃহস্পতিবার মহাসচিব বান সাংবাদিকদের বলেন 'যেকোন পরিস্থিতিতে যেকারণেই হোক না কেন যেকেউ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করলে'  তা হবে মানবতাবিরোধী অপরাধ।

মি বান বলেন যে রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা সিরিয়ায় গতসপ্তাহের কথিত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ এবং লোকজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মি বান বলেন যে তাঁরা তাঁদের অনুসন্থানকাজ আগামীকাল, শুক্রবার পর্য্যন্ত চালিয়ে যাবেন এবং শনিবার সকালে তাঁরা সিরিয়া ত্যাগ করবেন। সিরিয়া থেকে চলে আসার পরই তাঁরা আমার কাছে রির্পোট দেবেন এবং সেকারণেই আমি আমার অষ্ট্রিয়া সফর সংক্ষিপ্ত করছি।

মহাসচিব বান সংগৃহীতি নমুনা বিশ্লেষণ এবং সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যদের জানাবেন।

সিরিয়ায় পুরো একটি প্রজন্ম হুমকির মুখে

অব্যাহত সংঘাতের কারণে প্রায় ত্রিশ লাখের মতো সিরীয় শিশু বাস্তুচ্যূত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের দুটি প্রতিষ্ঠান – জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল, ইউনিসেফ।

সংস্থা দুটি বলছে যে প্রায় দশ লাখ সিরীয় শিশু শরণার্থী হিসাবে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে এবং আরো প্রায় কুড়ি লাখ শিশু সিরিয়ার ভিতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া শিশু শরণার্থীদের অর্ধেকই এগারো বছরের কম বয়েসী। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার অ্যান্টোনিও গুটারেজ বলেছেন যে পুরো একটি প্রজন্মের জীবন এখন হুমকির মুখে। তিনি বলেন যে এসব স্থানচ্যূত শিশুরা সবাই শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, যৌনশোষণ এবং মানবপাচারের হুমকির মুখে।

এমডিজি অর্জনে উদ্যোগ জোরদার করার জন্য বানের আহ্বান

নেদারল্যান্ডসের লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার স্বাধীনতা বিষয়ক এক বক্তৃতায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে সরকারগুলো এবং তৃণমূল পর্য্যায়ের চেষ্টার কারণে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র বা এমডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্বর্পূণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

মহাসচিব বলেন যে চরম দারিদ্রের মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অর্ধেকে আনা সম্ভব হয়েছে। ম্যালেরিয়া এবং যক্ষায় শিশুমৃত্যুর হার কমেছে এবং দুশো দশ কোটি মানুষ উন্নততর উৎস থেকে পানের পানি পাচ্ছেন।

তবে তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন যে এখনও অনেক কাজ বাকি। এখনও  প্রতিরোধযোগ্য রোগে পাঁচবছরের কম বয়েসী উনিশ হাজার শিশু দৈনিক মারা যাচ্ছে। এখনও আড়াইশো কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাষন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখাও চরম ঝুঁকির মুখে।

মি বান বলেন যে এমডিজি অর্জনের জন্য আর এক হাজার দিনও নেই এবং সেকারণে আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

শিশুশ্রম বন্ধে আই এল ও'র নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও সবচেয়ে বাজে ধরণের শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার বিষযে একটি নতুন প্রশিক্ষণ নির্দেশনা চালু করেছে।

সংস্থা বলছে যে ২০১৬ সালের মধ্যে নিকৃষ্ট রকমের শিশুশ্রমের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য কার্য্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা হাতিযার হিসাবে কাজ করবে।

এই নির্দেশনা নিকৃষ্ট ধরণের শিশুশ্রমকে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি তা দূর করার জন্য গুরুত্বর্পূণ কৌশলগুলো তুলে ধরেছে।

এতে সরকার, চাকরিদাতা, শ্রমিক এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীকে হত্যার নিন্দা

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একজন তাঞ্জানীয় শান্তিরক্ষীকে হত্যা ও অপর দশজনকে জখম করার ঘটনার নিন্দা করেছেন।

দেশটিতে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনী, মনুসকোর সদস্যরা গোমায় বেসরকারী নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার সময় এম টোয়েন্টি থ্রি নামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার শিকার হন।

বৃহস্পতিবার অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বক্তৃতার সময় বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষীরা কিধরণের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় তার দৃষ্টান্ত  হিসাবে তিনি এই হামলার উল্লেখ করেন।

মি বান বলেন যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের গোমায় শান্তিরক্ষার সময় এম টোয়েন্টি থ্রি বিদ্রোহীদের হামলায় একজন শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন এবং দশজন আহত হয়েছেন। আমি নিহতের পরিবার এবং আহতদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

মি বান বলেন যে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযাযী জাতিসংঘ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেবে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনী উচ্ছেদের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

গত উনিশে অগাষ্টের পর থেকে র্পূব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের অন্তত ছটি ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ইজরায়েলী কত্তৃপক্ষ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনীদের যে জোরর্পূবক উচ্ছেদের মাধ্যমে অপসারণ করেছে তাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হাই কমিশনারের মুখপাত্র, সেসিলি পোউলি জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান যে একটি ঘটনায় ইজরায়েলী কত্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের অনুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে গত উনিশে অগাষ্ট র্পূব জেরুজালেমের তেল আল আদাসায় বেদুইন সম্প্রদায়ের কিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় , যার ফলে সাতটি পরিবারের মোট উনচল্লিশ জন গৃহহারা হন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন