১৬:৫৪:৪১

ধর্মীয় ঘৃণা ও উস্কানি বন্ধের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান

শুনুন /

জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে মিয়ানমার মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেও  বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রকৃত আপোষরফা না হওয়া এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও উস্কানি ছড়ানোর বিষয়টি দেশটির সামনে এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, থমাস ওযিয়া কুইন্টানা বলেন যে পুলিশীব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মান অনুসরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের মধ্যে বলিষ্ঠ বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে উস্কানি ছড়ানো বন্ধের দায়িত্ব পালনে দেশটির সরকারকে আরও ভূমিকা নিতে হবে।

মিয়ানমারে তাঁর অষ্টম দফা সফরের শেষে মি কুইন্টানা রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে অব্যাহতভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখার নীতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে এটা ক্রমশই স্থাযী রুপ নিচ্ছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের তার বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

গত মার্চ মাসে মুসলমানদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সহিংসতায় ৪৩ জনের মৃত্যু এবং দশ হাজারেরও বেশি লোকের বাস্তুচ্যূতির ঘটনা ঘটেছে যেখানে সেই মিকটিলায় কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে জাতিসংঘ র‌্যাপোর্টিয়ারের সঙ্গীরা লাঞ্ছিত হওয়ায় সেখানে তাঁর সফরের চেষ্টা বাতিল করতে হয়।

মি কুইন্টানা বলেন যে প্রায় দুশোর মতো লোক আমার গাড়ির ওপর চড়াও হয়। তারা গাড়ির জানালা ও দরোজায় লাথি-ঘুষি মারতে থাকে এবং গালিগালাজ করতে থাকে। আমার উদ্বেগের বিষয় ছিলো এই যে পুলিশ কাছে থাকলেও তারা সেখানে হস্তক্ষেপ করে তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করে নি।

মি কুইন্টানা বলেন যে মিকটিলায় যেটা ঘটেছে তা খুবই গুরুতর এবং বিষয়টি নিয়ে আমি সরকারের সাথে কথা বলেছি। আমি আশা করি ভবিষ্যতে এমনটি আর হবে না।

মি কুইন্টানা বলেন যে মিয়ানমার বহু দশক ধরে সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে ছিলো এবং সরকারের জন্য তাই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তৃণমূল পর্য্যায়ে এমন ব্যবস্থা নেওয়া যাতে জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো এবং নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মি কুইন্টানা বলেন যে জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর প্রকৃত অংশগ্রহণ ছাড়া সাফল্যের সম্ভাবনা যেমন বিলম্বিত হবে তেমনি তা দুরুহ হয়ে পড়বে।

মি কুইন্টানা বলেন যে মিয়ানমারে এখনও চেতনার বন্দী রয়েছে এবং সরকারের উচিৎ হবে সব রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার তারা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন