১৬:২৯:৫৭

আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সব চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান

শুনুন /

৯ই অগাষ্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন যে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পাদিত চুক্তিগুলো, তা সে যতো ‍পুরোনোই হোক না কেন, সেগুলো রক্ষা এবং জোরদার করায় সব দেশকেই আরো উদ্যোগী হতে হবে।

মিস পিল্লাই বলেন এসব চুক্তিগুলো আদিবাসীদের পরিচয়, ভূমি এবং সংস্কৃতি সুরক্ষার মূলভিত্তি এবং আজকের মানবাধিকারের জন্যও তাদের গুরুত্ব অনেক। তিনি বলেন যে যদিও এসব চুক্তি রক্ষার বিষয়টিকে প্রায়শ:ই পবিত্র অঙ্গীকার হিসাবে বর্ণনা করা হয় এবং তাতে উভয়পক্ষের আন্তরিকতা প্রয়োজন তবুও অনেকসময়েই আদিবাসীদেরকে তা বাস্তবায়নের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বলেন যে বাস্তবতা হচ্ছে শোষণ এবং বঞ্চনা আজও অব্যাহত আছে এবং সেকারণেই বিশ্বের সাঁইত্রিশ কোটি আদিবাসীর অধিকার রক্ষায় এখনও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।  

বৈশ্বিক সংকটে আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সাথে জাতিসংঘের সহযোগিতা উন্নয়নের আহ্বান

মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সূচনা ঠেকাতে আরো দ্রুততার সাথে সাড়া দেওয়ার জন্য আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সাথে জাতিসংঘকে আরো কঠোরভাবে চেষ্টা চালাতে হবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মি বান একথা বলেন।

মি বান বলেন যে কর্মী বিনিময়ের ফলে নেটওর্য়াক তৈরি হয়েছে যা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মোকাবেলায় আমাদেরকে সাহায্য করে থাকে। মধ্যস্থতার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের ফলে আমাদের পক্ষে একটি অভিন্ন সমঝোতা এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ সম্ভব হয়। তবে, সমবসময়েই উন্নয়নের সুযোগ থাকে।

মি বান বলেন যে ঘনায়মান সংকটের বিশ্লেষণ এবং তথ্য ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আমরা তুলনামূলকভাবে ভালো করছি, কিন্তু দ্রুত পদক্ষেপগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ঠেকানোর ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে।

মিয়ানমার সফরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ

জাতিসংঘের একজন মানবাধকার বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে মিয়ানমারে তাঁর আসন্ন সফর দেশটির চলমান সংস্কার কর্মসূচির পটভূমিতে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে।

জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার টমাস ওজিয়া কুইন্টানা জানান যে দক্ষিণ-র্পুব এশিয়ার এই দেশটিতে তিনি ১১ থেকে ২১শে অগাষ্ট পর্য্যন্ত অবস্থানকালে সেখানে সম্প্রীতির্পূণ বহুজাতিক সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টার ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষিত হচ্ছে কিনা তিনি সেদিকে নজর দেবেন।

মিয়ানমারে পরিবারের কাছে ফিরলো আরো ৭৮ জন শিশুসৈনিক

জাতিসংঘের শিশু তহবিল, ইউনিসেফ জানিয়েছে যে বুধবার মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীগুলো আরো ৭৮ জন শিশুসৈনিককে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

সব শিশুশ্রমিককে পুর্নবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার এবং জাতিসংঘের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তির পর এটিই ছিলো একসাথে সবচেয়ে বেশিসংখ্যায় শিশুসৈনিককে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা। ২০১২ সালের জুন মাসের পর থেকে এপর্য্যন্ত মোট ১৭৬ জন শিশুসৈনিক মুক্তি পেয়েছে।

এসব শিশুর মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মিয়ানমারে নিযুক্ত ইউনিসেফ এর উপ-প্রতিনিধি শালিনি বহুগুনা সরকার এবং সশস্ত্রবাহিনীগুলোকে এই প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর করার আহ্বান জানান।

মিস বহুগুনা বলেন যে মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীগুলো ঠিক কতোজন শিশুসৈনিককে দলে নাম লিখিয়েছে তার কোন যাচাইযোগ্য তথ্য নেই। তবে, আমরা এটুকু জানি যে ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫৭০টি শিশুকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে তিনশো শিশুকে তাদের সমাজে আবার পুর্নবাসিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী এবং অপর সাতটি বিদ্রোহ গোষ্ঠী শিশু অধিকার সনদ লংঘন করে শিশু সৈনিক নিয়োগ করে থাকে।

উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলায় যুবসমাজকে ভূমিকা নিতে বানের আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে সবার জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুবসমাজকে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বুধবার জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ বিশ্ব যুব অধিবেশনে প্রদত্ত এক ভিডিও বার্তায় একথা বলেন।

মি বান বলেন যে দারিদ্রবিরোধী সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা – এম ডি জি অর্জনের জন্য ২০১৫ সালের সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে , কিন্তু এখনও অনেক কাজই বাকি।

মি বান উল্লেখ করেন যে বর্তমান তরুণ জনগোষ্ঠীই হচ্ছে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তরুণ সমাজ এবং তাদের সামনে চ্যালেঞ্জও  অনেক যেগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকরি, সামাজিক ন্যয়বিচার এবং টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা।

মানসিক আঘাতপ্রাপ্তদের চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা ঘোষণা

মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত ( ট্রমার শিকার)  লোকজনের মানসিক পরিচর্য্যা সেবাদানকারী পেশাদারদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেলথ এন্ড সাবস্ট্যান্স অ্যাবিউজ বিভাগের বিজ্ঞানী ডঃ র্মাক ভ্যান অমারম্যান বলেন যে শরণার্থী এবং অন্যান্য পরিস্থিতিতে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা যাতে মৌলিক মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিতে পারেন সেজন্যেই বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থা এই নীতিমালা  তৈরি করেছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন