১৭:৪৪:৪২

বিশ্বব্যাংক, আই এম এফ এর ঋণে ষাট শতাংশ পার্লামেন্টের কোন ভূমিকা নেই

শুনুন /

বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল – আই এম এফ এর মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরকারগুলো যেসব ঋণের চুক্তি করে বিশ্বের প্রায় চল্লিশ শতাংশ পার্লামেন্টেরই সেসব চুক্তি অনুমোদনের আইনগত ক্ষমতা নেই।

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন – আই পি ইউ এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথভাবে পরিচালিত এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পার্লামেন্টেরই ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোন পর্যায়েই কোনধরণের অংশগ্রহণ নেই।

আই পি ইউ এর মহাসচিব, অ্যার্ন্ডাস জনসন বলছেন যে সব দেশের ঋণের ক্ষেত্রেই পার্লামেন্টের যাচাই-বাছাই প্রয়োজন কেননা প্রায়শই এসব ঋণের সাথে এমন সব বিধান থাকে যাতে সাধারণ নাগরিকদের জীবনে প্রভাব ফেলার মতো নীতি বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়।

তিনি বলেন যে সরকার যে ঋণ গ্রহণ করছে তা আসলে প্রয়োজন ছিলো কিনা অথবা তা জাতীয় বাজেটে বোঝা বাড়াবে কিনা তা বিবেচনা করার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পার্লামেন্ট সদস্যদের থাকা উচিৎ।

আই পি ইউ এর মুখপত্র জেমিনি পান্ডে বলেন যে সরকারের ওপর পার্লামেন্টের  নজরদারি হচ্ছে কার্য্যকর সুশাসনের একটি গুরুত্বর্পূণ অংশ , কেননা জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যর্থতার প্রধান কারণ হচ্ছে র্দূবল শাসন এবং সেক্ষেত্রে পার্লামেন্টের অনুপস্থিতি। আই পি ইউ এই ত্রুটি দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

জেমিনি পান্ডে বলেন যে সরকারকে জবাবদিহি করানোর ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ভূমিকা শক্তিশালী করতে পারলে উন্নয়ন কাজে ভালো ফল পাওয়া যায় এবং যেকোন গণতান্ত্রিক সমাজে পার্লামেন্টের সেটাই অন্যতম প্রধান কাজ।

জেমিনি পান্ডে বলেন যে ২০১৫-উত্তর উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে গণতান্ত্রিক সুশাসনের বিষয়টিকে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য তাই আই পি ইউ উদ্যোগী হয়েছি।

একশোটিরও বেশি উন্নয়নশীল দেশের ওপর এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়। এই সমীক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে সরকারগুলোর জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ভূমিকাকে শক্তিশালী করা।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন