১৭:২৬:৪০

মিয়ানমারে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বানের আহ্বান

শুনুন /

মিয়ানমারের উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও দেশসমূহের  প্রতিনিধিদের এক সভায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে গতবছরে দেশটি বেশ কিছু গুরুত্বর্পূণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও জাতীয় সমঝোতা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলার প্রশ্নে তাদের সমানে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এবং সেক্ষেত্রে তাদের অব্যাহত সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিউইর্য়কে দ্য গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব মিয়ানমার নামে পরিচিতি এসব উন্নয়ন সহযোগীদের এক সভার সূচনা বক্তব্যে মি বান বলেন যে টেকসই শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষমতা এবং সম্পদ ভাগাভাগির একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থায় উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে সবার অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন।

মি বান বলেন যে রাখাইন রাজ্য এবং অন্যান্য জায়গায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে তাতে তিনি র্মমাহত এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায় যে উদ্বেগজনক মানবিক পরিস্থিতি ও র্দুদশার মধ্যে রয়েছে তাতে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বুধবার ওই বৈঠকের আগে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা – ও আই সি'র একটি প্রতিনিধিদল মহাসচিব বান কি মুনের সাথে দেখা করে মায়ানমারে মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। মহাসচিবের সাথে ওই বৈঠকের পর ওআইসি প্রতিনিধিদলের পক্ষে জাতিসংঘে নিযুক্ত সউদি রাষ্ট্রদূত মুতাজা এ খলিল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে এরকম ক্ষেত্রে নৈতিক কারণেই বিশ্ব নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

রাষ্ট্রদূত খলিল বলেন যে শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিষয়ে অগ্রগতির কথা বলে বিশ্বের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায় না যদি না সেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে মিয়ানমারের মুসলমানদের র্পূণ অধিকার স্বীকৃত হয়। রাষ্ট্রদূত খলিল বলেন যে আমরা আগে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতার কথা বলে আসছিলাম- কিন্তু, এখন এই সহিংসতা দেশটির সব মুসলমানদের ক্ষেত্রেই বিস্তৃত হয়েছে।

মি বান মিয়ানমারের উন্নয়ন সহযোগীদের সভায় বলেন যে দেশটিতে বিপজ্জনক মেরুকরণ ঘটছে এবং তা যদি জরুরীভিত্তিতে দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করা না হয় তাহলে সেখানকার চাপা উত্তেজনা আরো বড়ধরণের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তেমনটি ঘটলে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং ওই অঞ্চলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

মি বান বলেন যে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের দাবিসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বৈধ অভাব-অভিযোগ সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া মিয়ানমার কতৃপক্ষের জন্য খুবই গুরুত্বর্পূণ।২০১২ সালের জুন মাসে সংঘটিত সহিংসতার সময় থেকে রাখাইন রাজ্যে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যূত হয়েছেন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন