২০:০৪:৫৯

রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রের পরিপন্থী: বান

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন মিশরে অব্যাহত উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার সময়ে অহিংস সংলাপ এবং ধৈর্য্য সম্বরণের জন্য তাঁর আবেদন পুর্নব্যক্ত করেছেন।

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে এক সংবাদ সম্মেলনে মি বান বলেন যে মিশরের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি জাতিসংঘ উদ্বেগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পর্য্যবেক্ষন করছে।

মি বান বলেন যে বহু মিশরীয় নাগরিক তাঁদের প্রতিবাদে বৈধ উদ্বেগ এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু, একইসময়ে  রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সামরিকবাহিনীর হস্তক্ষেপ গুরুতর উদ্বেগের বিষয এবং তা গণতন্ত্রের মৌলনীতির সাথে সঙ্গতির্পূণ নয় বলেও মি বান মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন যে একারণেই গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুততার সাথে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা খুবই গুরুত্বর্পূণ। মহাসচিব বলেন যে সব মিশরীয় নাগরিকের উদ্বেগ নিরসন এবং চাহিদাপূরণে সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করার একটি কৌশল অনুসরণ আবশ্যক।

তিনি বলেন যে এই সংকটের সমাধানে যে কোন আলোচনা এবং সংলাপ ও সরকারে মিশরীয় সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

পারিবারিক সহিংসতায় আগ্নেয়াস্ত্রের হুমকি নারীদের ক্ষেত্রে বেশি

ক্ষুদ্র অস্ত্র বিষয়ে এক বৈশ্বিক জরিপে দেখ যাচ্ছে যে ঘরে থাকা অস্ত্রের কারণে খুন, জখম অথবা ভীতিপ্রদর্শনের ঘটনাগুলোর সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন নারীরা।

১১১টি দেশের তথ্য সংকলন করে দেখা যাচ্ছে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ছেষট্টি হাজার নারী তাঁর স্বামী অথবা প্রাক্তন জীবনসঙ্গীর হাতে সহিংসতার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছেন।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেনেভা গ্রাজুয়েট ইনিষ্টিটিউটের প্রকাশিত এই জরিপে বলা হচ্ছে পারিবারিক সহিংসতার ষাট শতাংশ ক্ষেত্রেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

ক্ষুদ্র অন্ত্র জরিপের গবেষণা পরিচালক মিস আনা আলভাজ্জি ডেল ফারটে বলেন যে তাঁদের হিসাবে প্রতিবছর বিশ্বে সহিংসতায় মারা যাচ্ছেন প্রায় ৫,২৬,০০০ লোক – যাঁদের মধ্যে মাত্র দশ শতাংশের মৃত্যুর কারণ যুদ্ধ বা সংঘাত , কেননা ২০০৪ সাল থেকে বিশ্বে রাষ্ট্র কতৃক ঘোষিত যুদ্ধ ক্রমশই কমছে।এটি ইঙ্গিত করে যে সহিংস মৃত্যুগুলোর অধিকাংশই ঘটছে ঘোষিত যুদ্ধ অথবা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে।

জরিপে বলা হয যে বিশ্বে বর্তমানে যে সাড়ে সাতাশি কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তার পঁচাত্তর শতাংশই আছে বেসামরিক লোকজনের কাছে।

দ্রুত নগরায়ণ টেকসই উন্নয়নের জন্য হুমকি : জাতিসংঘ

জাতিসংঘের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক জরিপে বলা হচ্ছে যে বিশ্বব্যাপী দ্রুত নগরায়নের প্রভাব মোকাবেলায় নতুন নীতিকৌশল প্রয়োজন।জ্বালানি, পানি, পয়ঃব্যবস্থা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মতো গণসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণেই এই নতুন কৌশল প্রয়োজন।

জরিপে বলা হয় যে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রায় ছয়শো পঁচিশ কোটি মানুষ শহরগুলোতে বাস করবেন – যাঁদের অর্ধেকেরও বেশি থাকবেন বস্তি এলাকায়  যেখানে পানি, পয়ঃব্যবস্থা, বিদ্যূৎ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো অনুপস্থিত থাকবে অথবা এসব সুবিধার পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবস্থা থাকবে না।

জরিপে আরো বলা হয় যে বৈশ্বিক পর্যায়ে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় বত্রিশ শতাংশ বর্তমানে অপচয় হয়ে থাকে। তাই বিশ্বব্যাপী অপচয় কমানোর লক্ষ্যে খাদ্যগ্রহণের রীতিনীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয এই জরিপে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সহকারী মহাসচিব শামশাদ আখতার বলেন যে আমাদের উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই যে বিশ্বে এখনও প্রতি আটজনের একজন ক্রমাগত পুষ্টিহীনতার শিকার।বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বে , বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারা এলাকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ২০১৫ সালের মধ্যে ক্ষুর্ধাত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ হবে না।

শামশাদ আখতার বলেন যে  ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে জনসংখ্যায় যখন আরো দুশো চল্লিশ কোটি লোক যুক্ত হবেন তখন বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে হবে অনন্ত সত্তুর শতাংশ। কর্মজীবি দরিদ্র লোকজন যাঁরা ঘরে বসেই বিভিন্ন কাজ করেন তাঁদের জন্য জ্বালানির অভাব এবং অনির্ভরযোগ্যতা সমস্যা তৈরি করে।

শামশাদ আখতার বলেন যে এই রিপোর্টে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যেখানে দরিদ্রদের জন্য বিশেষ জ্বালানিনীতির অনুপস্থিতির কারণে ২০৫০ সালেও দেখা যাবে বিশ্বে প্রায় দুশো চল্লিশ কোটি মানুষ রান্নার জন্য কাঠ-কয়লার ওপর নির্ভরশীল রয়েছেন।

এইচ আই ভি চিকিৎসায় নতুন নির্দেশনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও এইচআইভির চিকিৎসায় নতুন নির্দেশনায় অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি – এআরটি – আরো আগেই শুরু করার সুপারিশ করেছে।

সংস্থা বলছে যে সাম্প্রতিক তথ্যপ্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে যে এআরটি আগে শুরু করলে লোকজন অপেক্ষাকৃত সুস্থ জীবনযাপনে সক্ষম হয় এবং দীর্ঘায়ূ হয় এবং পরবর্তীতে তার মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।এর ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ আরো ত্রিশ লাখ মৃত্যু এবং পঁয়ত্রিশ লাখ লোকের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন