১৯:৪৭:০৩

২০০১ থেকে ২০১০ ছিলো উষ্ণতম দশক: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা

শুনুন /

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা – ডাব্লু এম ও'র এক নতুন রিপোর্টে বলা হচ্ছে যে ২০১০ সালে শেষ হওয়া দশকে বিশ্বে আবহাওয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ূ পরিবর্তনের যে চরম প্রভাব দেখা গেছে তা নজিরবিহীন।এগুলোর মধ্যে আছে ইউরোপে তাপপ্রবাহ, আমেরিকা এবং এশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় এবং গ্রীষ্মকালীন ঝড়, পাকিস্তানে বন্যা এবং অষ্ট্রেলিয়া ও র্পূব আফ্রিকায় খরা।

রিপোর্টে বলা হয় যে ১৮৫০ সাল থেকে তথ্য রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণতম দশক ছিলো ২০০১ থেকে ২০১০ সাল।

এই রেকর্ডমাত্রায় উষ্ণায়নের পাশাপাশি আর্কটিক সাগরে বরফ গলেছে অত্যন্ত দ্রুতহারে , ফলে গ্রীনল্যান্ড এবং অ্যার্ন্টাকটিকায় বরফের স্তর কমে গিয়ে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা প্রায় তিন মিলিমিটার বেড়েছে।

ডাব্লু এম ও বলছে ১৯০১ সালের পর থেকে এই দশকটিতে বৃষ্টিও হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এসময়ে প্রায় পাঁচশো গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাইক্লোনে এক লাখ সত্তুর হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন লাখ আশি হাজার কোটি ডলার।

এই দশকে এধরণের চরম আবহাওয়াজনিত দূর্যোগে মোট প্রাণহানির সংখ্যা তিন লাখ সত্তুর হাজার যা নব্বুইএর দশক থেকে প্রায় কুড়ি শতাংশ বেশি।

ডাব্লু এম ও'র মহাসচিব মিশেল যারু অবশ্য বলছেন যে আবহাওয়ার এধরণের চরম দূর্যোগের কারণ কি প্রাকৃতিক ওঠানামা নাকি এরজন্যে এককভাবে শুধুমাত্র জলবায়ূর পরিবর্তনকে দায়ী করা যায় তা নির্ধারণে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

মিশেল যারু বলেন যে যেহেতু অনেক জটিল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার পরিণতিতে এসব দূর্যোগ ঘটছে সেহেতু এর কোন একটির জন্য আমরা এককভাবে জলবায়ূ পরিবর্তনকে দায়ী করতে পারছি না। তবে, জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে আমরা আশংকা করছি যে ভবিষ্যতে এসব দূর্যোগ আরো ঘন ঘন এবং বেশি ধ্বংসাত্মক হবে।

মি যারু বলেন যে উদাহরণ হিসাবে যদি তাপপ্রবাহের কথা ধরা হয় তাহলে দেখা যাবে এই শতাব্দির শেষে বিভিন্ন কারণে তা যেমাত্রায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটিকে কোনভাবেই অস্বাভাবিক বলা যাবে না।

মি যারু বলেন যে এমনকি এই শতাব্দির শেষে কিছু বন্যা, কিছু খরা অথবা কিছু প্রাকৃতিক দূর্যোগ স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

মি যারু বলেন যে আমরা অবশ্য নিশ্চিন্তে একথা বলতে পারি যে যদি জলবায়ূ পরিবর্তনে মানুষের ক্ষতিকর ভূমিকা না থাকে তবে ওইসব প্রাকৃতিক দূর্যোগের কিছু কিছু হয়তো আর ঘটবে না।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে যে গত দশকে যদিও বছরওয়ারি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা আগের দশকের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে তবুও ঝড়-বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এর কারণ আগাম হুঁশিয়ারি এবং বেশি করে প্রস্তুতিগ্রহণ বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন