১৫:০৬:৪১

প্রতি তিনজনে একজন নারী সহিংসতার শিকার :ডাব্লু এইচ ও

শুনুন /

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও বলছে যে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মহামারীর মতো একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে যেখানে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন কোন না কোন ধরণের যৌন অথবা শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ে নতুন এক গবেষণায় সংস্থা বলছে যে স্বামী অথবা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ জীবনসঙ্গীর সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি ঘটছে এবং বিশ্বব্যাপী এর পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ত্রিশ শতাংশ।

পরিবার, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহকারি পরিচালক, ডঃ ফ্লাভিয়া বুয়েস্ত্রো বলেন যে এসব সহিংসতার পিছনে যেসব কারণ রয়েছে সেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যসবা ও বিচারব্যবস্থায় নারীদের প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় সরকারগুলোর উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

ডঃ বুয়েস্ত্রো বলেন যে পনেরো থেকে উনিশ বছর বয়েসী তরূণী তেকে শুরু করে পঁয়ষট্টি বছরের বেশি বয়েসী নারী সবাই একইধরণের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। কোন দেশের গড় আয়ের হার যাই হোক না কেন বিশ্বব্যাপী  বিভিন্ন অঞ্চলের সব দেশেই এই ধারাটি দেখা যাচ্ছে।

ডঃ বুয়েস্ত্রো বলেন যে এটি প্রতিহত করার জন্য খুবই গুরুত্বর্পূণ হচ্ছে এই সমস্যা কতোটা ব্যাপক সেবিষয়ে তথ্য এবং সচেতনতা ।

রির্পোটে দেখা যাচ্ছে যে আফ্রিকায় ৪৫ শতাংশ এবং আমেরিকা ও র্পূব ভূমধ্যসাগরীয় অহ্ছলে ৩৬ শতাংশ নারী যৌনসহিংসতার শিকার।

বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে একজন  বাস্তুচ্যূত হচ্ছেন: জাতিসংঘ

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে গত কুড়ি বছরের মধ্যে এখন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত এবং উদ্বাস্তুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এর সংখ্যা সাড়ে চার কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন যে শুধুমাত্র গতবছরেই বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে একজন তাঁর বাড়ী ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

যুদ্ধকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসাবে বর্ণনা করে মি বান শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং এবং তাদের দায়িত্বগ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো দয়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার হওয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থা – ইউ এন এইচ সি আর এর প্রধান অ্যান্টোনিও গুটারেস এতো বেশি সংখ্যায় বাস্তুচ্যূত হওয়ার ঘটনাকে বিশ্বে সংঘাত ঠেকানো এবং তা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সমস্যার মধ্যে রয়েছে তার প্রতিফলন বলে বর্ণনা করেন।

মি গুটারেস বলেন যে বিশ্বের উদ্বাস্তুদের সাতাশি শতাংশকেই সুরক্ষা দিচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। সুতরাং, যখন উন্নত দেশগুলোতে উদ্বাস্তুদের সম্পর্কে আলোচনা হয় তখন আমার মনে হয় তাঁদেরকে এটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া ভালো যে শরণার্থীরা উন্নত জীবনের সন্ধানে দরিদ্র দেশ থেকে পালিয়ে আসছে না। শরণার্থী হলেন তাঁরাই যাঁদেরকে পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তারা বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশেই বাস করছেন।

গুটারেস বলেন যে বিশ্বের শরণার্থীদের প্রায় অর্ধেকই আঠারো বছরের কমবয়েসী শিশু।

দারিদ্রমোচনের উদ্যোগ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাধাগ্রস্ত হবে : বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বুধবার লন্ডনে বলেছেন যে বিশ্বের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে তা বিশ্বের বিশেষ করে আফ্রিকার দারিদ্র দূরীকরনের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে।

জিম ইয়ং কিম বলেন  যে বৃষ্টির ধরণ বদলে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় কোন কোন শহর পানিতে তলিয়ে যাবে আর কোথাও কোথাও  বিদ্যূৎ উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং পান করার পানির অভাব দেখা দেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো দূর অতীতের বিষয় নয়। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আগের চেয়ে ঘন ঘন আঘাত হানবে ।

মায়ানমারে মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণা সংস্কারের জন্য হুমকি : নাভি পিল্লাই

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন যে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা এবং ওই রাজ্য ও তার বাইরে মুসলিমবিদ্বেষী মানসিকতার বিস্তার দেশটির সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং বিষয়টিতে দ্রুত সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

হাইকমিশনার বলেন যে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট কিছু গুরুত্বর্পূণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন যে তাঁর বিশ্বাস যে রাজনৈতিক ইচ্ছা সেখানে আছে কিন্তু তা বাস্তবায়নে তিনি সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে চান।

গতবছরে রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতার পর থেকে সেখানে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার মানুষ – যাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যূত হয়েছেন এবং হাজার হাজার লোক নৌকায় করে পালিয়ে গেছেন।

হাইকমিশনার পিল্লাই বলেন যে সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে মায়ানমারের বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে তাতে দেশটির সরকার বৈষম্য দূর করায় আরও উদ্যোগী হবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন