১৫:০০:০৫

শহরগুলোকে জলবায়ুসহিষ্ণু করে গড়ে তোলার আহ্বান বিশ্বব্যাংকের

শুনুন /

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে বুধবার প্রকাশিত 'টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট এক্সট্রিম রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়েন্স' শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোর অন্যতম।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে দুই ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমনকি ২০৩০ বা ২০৪০ সালের মতো তাড়াতাড়িও  ঘটতে পারে।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা এমন একটা অবস্থার মুখোমুখি হতে পারি যেখানে চরম উষ্ণতা এবং খরার কারণে বর্তমানে যে পরিমাণ জমিতে ভুট্টাচাষ সম্ভব তার চল্লিশ শতাংশ জমি আর ভূট্টা ফলাতে সক্ষম হবেনা। উপরন্তু, চরম উষ্ণতার কারণে উষ্ণমন্ডলীয় তৃণময় সমতলভূমি এবং তার ওপর নির্ভরশীল মেষপালকদের জীবনযাত্রা ধ্বংস হয়ে যাবে।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে দারিদ্র দূর করার কোন আশা যদি আমরা জিইয়ে রাখতে চাই তাহলে আমাদেরকে আফ্রিকায় অগ্রগতি লাভ করতে হবে এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আমরা যদি কিছু না করি তাহলে বিশ্বের তথা আফ্রিকার দারিদ্র দূর করার জন্য আমাদেরকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে।

জার্মানভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের নেতৃত্বে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির মূল সুর হচ্ছে, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বর্তমানে যে হারে বাড়ছে, তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০৯০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে 'আমি বিশ্বাস করি, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারব। আমরা যদি শহরগুলোকে জলবায়ুসহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উপযোগী করে আমাদের কৃষিকে ঢেলে সাজাতে পারি, নবায়ণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারি, তাহলে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিশ্বের অগ্রগতি ঘটাতে পারব।

দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র দুর করার ওপর জলবায়ূ পরিবর্তনের হুমকি সম্পর্কে  জিম ইয়ং কিম বলেন যে তাঁদের দারিদ্র দূরীকরণের কার্য্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া এবং আমরা যদি এখনই উদ্যোগ নিতে না পারি তাহলে তার ফলে যে মারাত্মক ক্ষতি হবে তা কাটিয়ে ওঠা কখনোই সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি গরিব মানুষের ঘরবাড়ি বিনষ্ট হবে। তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে।

বন্যার সময় আগের চেয়ে বেশি উচ্চতা নিয়ে পানি প্রবাহিত হবে। এতে প্রধান ফসল বোরো ও আমনের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।রির্পোটে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয় যে ২০৫০ সালের মধ্যে এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে তিন মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানবে। এতে ৯০ লাখ মানুষের বাড়িঘর ডুবে যেতে পারে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন