১৬:০০:০৬

ক্ষুধাবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ ৩৮দেশের সাফল্য

শুনুন /

বাংলাদেশসহ মোট আটত্রিশটি দেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঠিক করা লক্ষ্যমাত্রা , ২০১৫ সালের অনেক আগেই ক্ষুধাবিরোধী লড়াইয়ে সাফল্য লাভ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও।

এদর মধ্যে বাংলাদেশসহ কুড়িটি দেশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষুধার্তের আনুপাতিক হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার মাধ্যমে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ( মিলেনিয়াম ডেভলেপমেন্ট গোল) – এমডিজির এক নম্বর শর্তটি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

দুই হাজার সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এসব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিলো। ১৯৯০ থেকে ৯২ সালের অনুপাতের সাথে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের সময়কার ক্ষুর্ধাত জনগোষ্ঠীর অনুপাত যাচাই করে এই তথ্য নিশ্চিত করার কথা জানায় এফ এ ও।

তবে, আঠারোটি দেশ এমডিজির এক নম্বর শর্ত ছাড়াও বিশ্ব খাদ্য র্শীষসম্মেলনের নির্ধারিত লক্ষ্য – পুষ্টিস্বল্পতার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছে।বিশ্ব খাদ্য র্শীষ সম্মেলনের এই লক্ষ্যকে ডাব্লু এফ এস হিসাবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।

এমডিজি এক অর্জনকারী দেশগুলো হচ্ছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বাংলাদেশ, বেনিন, ব্রাজিল, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, চিলি, ডোমেনিকান প্রজাতন্ত্র, ফিজি, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালাওয়ি, মালদ্বীপ, নিজের, নাইজেরিয়া, পানামা, টোগো এবং উরুগুয়ে।

আর এমডিজি এক এবং ডাব্লু এফ এস – উভয় লক্ষ্য অর্জনেই সফল হয়েছে এমন আঠারোটি দেশ হচ্ছে : আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কিউবা, জিবুতি, জর্জিয়া, ঘানা , গায়ানা, কুয়েত, কিরঘিজস্তান, নিকারাগুয়া, পেরু, সেন্ট ভিন্সেন্ট এন্ড দি গ্র্যান্ডাইন্স, সামোয়া, সাওটেোমো এন্ড প্রিন্সিপে, থাইল্যান্ড, তুর্কমেনিস্তান, ভেনিজুয়েলা এবং ভিয়েতনাম।

এফ এ ও'র মহাপরিচালক, হোসে গ্রাযিয়ানো ডি সিলভা ২০১২ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের সূচিত ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে এক্ষেত্রে অর্জিত গতি বজায় রাখার জন্য সবদেশের প্রতি আহ্বান জানান।

সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৯৩ হাজার: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর – ও এইচ সি এইচ আর – প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ২০১১'র র্মাচে শুরু হওয়া সংঘাতে এপর্য্যন্ত প্রায় তিরানব্বুই হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতদের আশি শতাংশই পুরুষ হলেও ও সি এইচ সি আর প্রায় আট হাজার দুইশো শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নথিবদ্ধ করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান, নাভি পিল্লাই বলেছেন যে গতবছরের জুলাইমাস থেকে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে এবং এই সংখ্যা গড়ে প্রতি মাসে পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে।

মিস পিল্লাই বলেন যে সরকারী সৈন্যরা শহরাঞ্চলে প্রত্যেকদিন আকাশ থেকে বোমা ফেলছেন এবং কামানের গোলা দাগাচ্ছেন।তাঁরা কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র, গুচ্ছবোমা এবং থার্মোবোরিক বোমা ব্যবহার করছে।

মিস পিল্লাই বলেন যে বিরোধীবাহিনীরাও আবাসিক এলাকায় গোলা নিক্ষেপ করছে – যদিও তাদের সমরশক্তি কম। বিশেষ করে দামেস্কসহ বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রস্থলে বহুবিধ বোমাবর্ষণের কারণে লোকজন হতাহত হচ্ছেন।

মিস পিল্লাই বলেন যে আরো হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটার আগেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য আমি সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে কোন পক্ষই লাভবান হচ্ছে না।

মিস পিল্লাই বলেন যে যেসব দেশের প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা আছে তাঁরা যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব যার ফলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।

মিস পিল্লাই বলেন যে এই পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান হচ্ছে রাজনৈতিক সমঝোতা। দূর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জাজনকভাবে কোনকিছুই আর এই তিরানব্বুই হাজার জীবনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার আরো বলেন যে তাঁরা প্রাণহানির যে হিসাব পেয়েছেন তাহোল সর্বনিম্ন সংখ্যা – যা বাস্তবে আরো অনেক বেশি হতে পারে।

বিশ্বে এক কোটিরও বেশি শিশু গৃহকর্মীর কাজ করছে : আই এল ও

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও বলছে যে আঠোরোর নিচে বয়স এমন প্র্য় এক কোটি পঞ্চান্ন লাখ শিশু-কিশোর গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করছে।

এরমধ্যে আনুমানিক এক কোটি হচ্ছে শিশুশ্রমিক।যার মানে হচ্ছে তারা ঝুঁকির্পূণ কাজ করার জন্য আইনসম্মত বয়সের নিচে এবং কোথাও কোথাও এমনকি দাসত্বের মতো অবস্থায় তাঁদেরকে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

বিশ্ব শিশুশ্রমবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার আই এল ও তার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায় পাঁচ থেকে চৌদ্দ বছরের মধ্যে বয়স এমন শিশুশ্রমিকের সংখ্যা এখন প্রায় পঁয়ষট্টি লাখ।

আই এল ও'র শিশুশ্রম দূর করা বিষয়ক কার্য্যক্রমের প্রধান, কনসট্যান্স থমাস বলেন যে এদের অবস্থা শিশু অধিকারের চরম লংঘন।

কনসট্যান্স থমাস বলেন যে আমরা জানি যে তারা শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নিপীড়ণের মিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মি থমাস বলেন যে তারা তাদের কাজের ধরণ অনুযায়ী নিজেদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সাধারণের চোখের আড়ালে থাকে এবং তারা যেসব বাড়িতে কাজ করে সেইসব পরিবারের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে গৃহস্থালী কাজে শিশুশ্রমের ব্যবহার নির্মূল করার জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্য্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

আরো বেশিসংখ্যক স্বেচ্ছ্বায় রক্তদাতা প্রয়োজন : ডাব্লু এইচ ও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও বলছে যে প্রাণরক্ষাকারী রক্ত এবং রক্তসম্পর্কিত সামগ্রী বহু রোগীর কাছে সহজলভ্য নয় এবং সেকারণে বিশ্বব্যাপী রক্ত এবং রক্তসম্পর্কিত সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে।

সংস্থা বলছে ২০১১ সালে বিশ্বে স্বেচ্ছ্বায় এবং বিনামূল্যে প্রায় আট কোটি ত্রিশ লাখ রক্তদানকারী রক্ত দিয়েছেন যা ২০০৪ সালের সংখ্যার চেয়ে আশি লাখ বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে রক্তের সবচেয়ে নিরাপদ উৎস হচ্ছে যাঁরা সেচ্ছ্বায় রক্ত দেন তাঁরা কেননা তাতে সংক্রমণের পরিমাণ বা ঝুঁকি থাকে ন্যূনতম। কিন্তু, টাকার বিনিময়ে যাঁরা রক্ত দেন তাঁরা এবং জরুরী অবস্থায় যেসব আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে আসেন তাঁদের রক্তের তুলনায় স্বেচ্ছ্বায় রক্তদানকারীদের রক্ত কম ঝুঁকির্পূণ।

সেকারণে সংস্থা স্বেচ্ছ্বায় নিয়মত রক্তদানে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য কতৃপক্ষসমূহের প্রতি উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন বিভাগের প্রধান ডঃ নীলম ধিংরা বলেন যে বিশ্বে এখন ষাটটিরও বেশি দেশে শতকরা একশো ভাগ রক্তের সরবরাহ আসছে বিনামূল্যে এবং স্বেচ্ছ্বায় রক্তদানকারীদের কাছ থেকে।

ডঃ ধিংরা বলেন যে ২০০৪ এবং ২০১১র সংখ্যাগুলোর মধ্যে তুলনা করলে দেখা যাবে যে এই সময়ে বিশ্বব্যাপী রক্তদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পঁচিশ শতাংশ। কিন্তু, তাসত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ রোগী প্রয়োজনের সময় রক্ত পান না এবং সেকারণে চাহিদা বাড়ছে – আর আমাদের প্রয়োজন আরো অনেক রক্তদাতা।

ডঃ ধিংরা বলেন যে ডাব্লু এইচ ও রক্তসংগ্রহকারী সব ইউনিটকে চারটি রোগের সংক্রমণ যাচাই করে নেওয়ার সুপারিশ করছে যেগুলো হোল : এই আই ভি, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং সিফিলিস।

ডঃ ধিংরা বলেন যে এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ এবং তার পুনরাবৃত্তির হার বিবেচনায় নিয়ে ম্যালেরিয়া, শাগাস, লিউকোমিয়া এবং ওয়েষ্ট নাইল ভাইরাসের জন্যও অনেকদেশকে রক্তপরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য সংস্থা সুপারিশ করেছে।

ডঃ ধিংরা বলেন যে প্রত্যেকটি দেশেরই জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি এবং অবকাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিৎ পর্যাপ্ত এবং নিরাপদ রক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা।

ওষুধ প্রতিরোধক যক্ষার চিকিৎসায় নতুন নির্দেশনা

বিশ্ব স্বাস্ত্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও নানাধরণের ওষুষ-প্রতিরোধক নতুন জাতের যক্ষার চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধ ব্যবহারের লক্ষ্যে অর্ন্তবর্তী নীতি নির্দেশনা জারি করেছে।

সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে এখন বছরে এই বহু-ওষুধ প্রতিরোধক ( মাল্টি ড্রাগ রেজিষ্ট্রান্ট – এমডিআর টিবি নামে পরিচিত) এক নতুনধরণের যক্ষায় আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় পাঁচ লাখ লোক।

সংস্থা বলছে যে এমডিআর টিবির বর্তমান চিকিৎসাব্যবস্থায় অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে রোগীকে কুড়ি মাস বা তারও বেশি সময় ধরে দৈনিক এই ওষুধ সেবন করানো।

সংস্থা বলছে যে এই ওষুধ অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষারক, কার্য্যকারিতা ক্ষমতা কম এবং অনেক বেশি ব্যয়বহুল। সংস্থা আরো জানায় যেসব এমডিআর যক্ষার রোগী এই ওষুধসেবন শুরু করেছেন তাদের অর্ধেকেরও কম এই থেরাপিতে রোগমুক্ত হয়েছেন।

গতবছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন এই ওষুধটিকে অনুমোদন দেয়।

মহাশূণ্য অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য নারীদের প্রতি আহ্বান

মহাকাশে ভ্রমণকারী প্রথম নারী রাশিয়ার ভ্যালেন্টিনা টেরেশকোভা মহাকাশ কার্য্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৬৩ সালের ১৬ই জুন ভ্যালেন্টিনা টেরেশকোভা মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে মহাকাশযান ভোষ্টক ৬ এ চড়ে বিশ্বকে ৪৮ বার পরিক্রমণ করেছেন।

মহাকাশে নারীর পদচারণার অর্ধশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় জাতিসংঘের দূরাকাশ বিষয়ক দপ্তর – ইউনাইটেড নেশন্স অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফের্য়াস ( ইউএনওওএসএ) আয়োজিতে এক অনুষ্ঠানে ৭৬ বছর বয়েসী এই নভোচারি বলেন ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিনের ফ্লাইটটির পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে বহু তরূন-তরূনী মহাকাশযাত্রায় আগ্রহী হয়ে ওঠে।

মিস টেরেশকোভা বলেন যে আমি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে মানববাহী মহাকাশযাত্রায় নারীরা অংশ নেবেন। পাখির পক্ষে যেমন একটি ডানা নিয়ে ওড়া অসম্ভব তেমনি মানববাহী মহাকাশযাত্রাও নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।

মিস টেরেশকোভা বলেন যে আমরা এখন চাঁদে ফিরতে চাই, অ্যাষ্টরয়েডের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে চাই , মঙ্গলগ্রহে যেতে চাই। এবং আমি মনে করি নারীদের সঙ্গে না নিয়ে মঙ্গলগ্রহে গেলে মঙ্গল পুরুষদের ক্ষমা করবে না।

জাতিসংঘের মহাকাশ বিষয়ক দপ্তর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা, কানাডা, চীন, ইটালি, জাপান, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মহাকাশ কার্য্যক্রমে অংশগ্রহণকারী অগ্রপথিক নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন