১৭:০১:১৮

উন্নয়নশীল দেশে শিশুরা মোটা হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে

শুনুন /

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও বলছে যে শিশু-কিশোরদের মোটা হওয়া বা ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে হুমকি তৈরি হচ্ছে তা মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেকেরই কোন নীতি নেই।

সংস্থা বলছে যে পাঁচ বছরের কম বয়সী চার কোটি ত্রিশ লাখ শিশুর পঁচাত্তর শতাংশেরও বেশি শিশু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাস করে এবং আফ্রিকায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি – যেখানে গত কুড়ি বছরে এর পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থা বলছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণে দেখা যাচ্ছে যে যেসব শিশু জন্মের পর প্রধম বছরে পুষ্টিস্বল্পতায় ভোগে কৈশোরে তাদের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি বিভাগের ডঃ ফ্রান্সেসকো ব্রাঙ্কা বলছেন গভর্বতী নারীদের পুষ্টির সরবরাহ বাড়ানো এবং শিশুজন্মের পর তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর পুষ্টিহীনতা এবং ওজনবৃদ্ধি দুটোই ঠেকানো সম্ভব।

ড. ব্রাঙ্কা বলেন যে এসব পরিস্থিতিতে করণীয় কি তা আমরা জানি, এখন বিষয়টি হোল যাদের এগুলো প্রয়োজন তাদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। আমরা চাই এসব জীবনরক্ষাকারী এবং সাধারণত অল্পব্যয়ে যে সেবা দেওয়া সম্ভব সেগুলো খুব অল্প বয়সেই তাদের কাছে পৌঁছে দেওযার একটি সবর্জনীন ব্যবস্থা।

ড. ব্রাঙ্কা বলেন যে একটা শিশু যখন জন্ম নেয় তখন তার জন্য উপযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থাটা নিশ্চিত করা দরকার। জীবনের একেবারে গোড়াতেই বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা দরকার এবং পরের ছয়মাস তাকে শুধুই বুকের দুধ খাওয়ানো এবং প্রথম দুই বছর পর্য্যন্ত তা চালু রাখা দরকার।

ড. ব্রাঙ্কা বলেন যে প্রথম ছয়মাস পার হয়ে যাওয়ার পর গুরুত্বর্পূণ হস্তক্ষেপ হবে তার খাদ্য যাকে আমরা পরিপূরক খাবার বলে থাকি তার পর্য্যাপ্ততা নিশ্চিত করা। সেটা পারিবারিক খাবারের মাধ্যমেও হতে পারে অথবা কারখানায় প্রস্তুত খাবারের মাধ্যমেও হতে পারে।

ফ্রান্সেসকো ব্রাঙ্কা বলছেন যে মোটা শিশু বয়:প্রাপ্ত অবস্থায়ও মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যার ফলে, তার ডায়াবেটিস এবং অসংক্রমণযোগ্য অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন : আই এল ও

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও'র মহাপরিচালক, গাই রাইডার বলেছেন যে জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবতর্নের কারণে এবং ক্রমবধর্মান বৈষম্য, দারিদ্র এবং মন্দা কাটিয়ে ওঠার গতি শ্লথ হওয়ায় কর্মসংস্থান বা কাজের ক্ষেত্রে দ্রুত এবং গভীর রুপান্তর ঘটছে।

জেনেভায় ১০২তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের উদ্বোধন করে মি রাইডার বলেন যে এসব বিষয়ে সবার জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

মি রাইডার বলেন যে সবজায়গায় যে বিষয়টি অত্যন্ত জরুরিভিত্তিতে এবং কখনও কখনও আতঙ্কের সাথে সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ প্রশ্ন হিসাবে উত্থাপিত হচ্ছে তাহোল চাকরি আসবে কোত্থেকে ? মি রাইডার বলেন যে বিষয়টি তরূণদের অবস্থার পটভূমিতেই উত্থাপিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

কৃষি উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার আগামী দশকে শ্লথ হবে

অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংস্থা – ও ই সি ডি এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও'র এক নতুন রির্পোটে বলা হয়েছে যে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার আগামী দশকে বছরে দেড় শতাংশে নেমে আসবে যার গড় ২০০৩ থেকে ২০০২ সালে ছিলো বার্ষিক দুই দশমিক এক শতাংশ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই রির্পোটে বলা হয় যে কৃষিজমির সম্প্রসারণের সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সম্পদের টানাটানি এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চাপের কারণেই এই প্রবণতা দেখা যাবে। তবে, প্রতিবেদনে বলা হয় যে কৃষিপণ্যের সরবরাহ বৈশ্বিক চাহিদার সাথে তাল মেলাতে সক্ষম হবে।

ওইসিডি-এফএও'র আউটলুক ২০১৩-২০২২ এ বলা হয় যে মধ্যমেয়াদে কৃষিপণ্যের দাম ঐতিহাসিক মাত্রার ওপরে থাকবে প্রধানত দুটো কারণ – শস্য এবং গৃহপালিত পশুপাখির প্রবৃদ্ধির হার শ্লথ হওয়া এবং জৈব জ্বালনির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া।

রির্পোটে বলা হয় যে কৃষিপণ্য অতীতের মতো নীতিদ্বারা প্রভাবিত হওয়ার চাইতে এখন বাজারের শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বেশি।

সিরিয়া নিয়ে শান্তি সম্মেলন এখন জুলাইয়ে

জাতিসংঘের বিশেষ দূত, লাখদার ব্রাহিমি জানিয়েছেন যে সিরিয়া বিষয়ে বহুলপ্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন এখন জুলাই মাসের কোন একসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

জেনেভায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর মি ব্রাহিমি বলেন যে চলতিমাসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা তিরোহিত হয়েছে কেননা সিরীয়রা এখনও এর জন্য প্রস্তুত নয়।

মি ব্রাহিমি বলেন যে সিরিয়ার সংকটের একমাত্র সমাধান রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব এবং তা জরুরিভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে একমত হয়েছি।

মি ব্রাহিমি বলেন যে মা্ঠপর্য্যায়ে দূর্যোগ যে কতোটা আতঙ্কজনক তা আমার মনে হয় আমি যতোটা জানি আপনারা ততোটা বা তারচেয়েও বেশি জানেন। সিরিয়া এবং তার জনগণের জন্য এই দূর্যোগের অবসান ঘটা প্রয়োজন। এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য এখনও অনেক কাজ বাকি এবং সেকারণে আমরা আজ সিদ্ধন্তে পৌঁছেছি যে জুন মাসে এটি আয়োজন করা সম্ভব নয়।

মি ব্রাহিমি বলেন যে এই সম্মেলন হচ্ছে সিরীয় জনগণের জন্য এবং সেকারণে তাদেরকে প্রস্তুতিগ্রহণের জন্য পর্য্যাপ্ত সময় দেওয়া খুবই গুরুত্বর্পূণ।

বৈষম্যমূলক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ নারীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি : পিল্লাই

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, নাভি পিল্লাই বলেছেন যে বৈষম্যমূলক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ সবচেয়ে বেশি পরিব্যাপ্ত হচ্ছে নারীদের ক্ষেত্রে। বুধবার নারী অধিকার বিষয়ে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বার্ষিক র্পূণদিবস আলোচনায় মিস পিল্লাই একথা বলেন।

মিস পিল্লাই বলেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ১৯৯০ সালের আগে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে প্রধানত একটি ব্যাক্তিগত বিষয় বলে মনে করতো , মানবাধিকারের বিষয় হিসাবে বিবেচনা করতো না। কিন্তু, নব্বুইয়ের দশকে এটি বদলে যায়। ১৯৯৩ সালে গৃহীত ভিয়েনা সনদ এবং কর্মপরিকল্পনার সময় থেকে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে আন্তর্জাতিক পর্য্যায়ে একটি বিবেচ্য বিষয় হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

মিস পিল্লাই বলেন যে আন্তর্জাতিক অগ্রগতির প্রতিফলন জাতীয় পর্য্যায়েও ঘটছে। কার্য্য্যত সবদেশই আইনী কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও নীতিমালার মাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিয়েছে।

মিস পিল্লাই বলেন যে আমরা এসব অগ্রগতিকে স্মরণ করবো ঠিকই , কিন্তু একইসাথে একথাও স্বীকার করবো যে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপকতা এখনও অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় রয়ে গেছে।

মিস পিল্লাই বলেন যে শিক্ষা, শ্রম ও স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোসহ রাষ্ট্রীয় বা সরকারী পদে সমতার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয় এবং সহিংসতার অবসানে ১৯৯৫ এর বেইজিং সম্মেলন এবং অতিসম্প্রতি নারীর মর্য্যাদা বিষয়ে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৫৭তম অধিবেশনে অঙ্গীকার র্পুণব্যাক্ত হয়েছে।

খাদ্যের অপচয় কমালে পরিবেশের ওপর চাপ কমে : বান

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার এক বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব, বান কি মুন বলেছেন যে আমরা প্রার্চূয্যের বিশ্বে বাস করছি – যেখানে সরবরাহের চেয়ে উৎপাদন হয় বেশি, কিন্তু তারপরও বিশ্বের ৮৭ কোটি লোক এখনও পুষ্টিস্বল্পতার শিকার এবং অগণিত শিশুর বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মহাসচিব বলেন যেধরণের ভবিষ্যত আমরা চাই তা তৈরি করতে হলে আমাদের এই বৈষম্য দূর করতে হবে। মি বান বলেন যে আমাদেরকে অবশ্যই সবার জন্য পর্য্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, উন্নয়নশীল বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের প্রধান কৃতিত্ব যাদের সেই ক্ষুদ্রচাষীদের উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়ানো এবং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে টিকে থাকার মতো টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন যে অপচয় এবং খাবার নষ্টের বিষয়টি আমরাই মোকাবেলা করতে পারি। আর সেকারণেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ( ইউ এন ই পি) , জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ( এফ এ ও) এবং বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী অংশীদাররা সম্মিলিতভাবে শুরু করেছে বিশেষ প্রচারাভিযান – ' ভাবুন, খান, বাঁচান, আপনার খাদ্যের ছাপচিহ্ন কমান'।

উন্নয়নশীল এবং উন্নত সবদেশেই এই পদ্ধতি কাজে লাগানোর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে এই প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন