১৭:১৫:০১

প্রতিবন্ধী শিশুদের সমঅধিকার দিতে ইউনিসেফের আহ্বান

শুনুন /

জাতিসংঘের শিশু তহবিল, ইউনিসেফ বলেছে যে এখনও অনেক বেশীসংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোর পূর্ণাঙ্গ জীবনযাপন এবং সমাজের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্নধরণের বৈষম্য ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইউনিসেফ তার বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি শীর্ষক বার্ষিক রিপোর্টে বলেছে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। তাদেরকে কোন প্রতিষ্ঠানে রাখা হলে অথবা লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হলে তাদের অবহেলা, সহিংসতা ও অত্যাচারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশী।

রিপোর্টে বলা হয় যে প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে দাতব্য সেবার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসাবে না দেখে তাদেরকে জীবনের প্রতি অধিকার , ভালো স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, শিক্ষা এবং আইনের আওতায় মতপ্রকাশ এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে অন্য শিশুদের সমান হিসাবেই বিবেচনা করা উচিৎ।

ইউনিসেফের মুখপত্র, আবিদ ইসলাম বলছেন যে চলতি বছরের রিপোর্টে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিবন্ধী হিসাবে না দেখে আগে শিশু হিসাবে দেখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মি ইসলাম বলেন যে তাদের স্বপ্ন আছে। তাদের সেসব স্বপ্ন পূরণের আকাঙ্খা আছে। এবং রিপোর্টে আমরা যেমনটি দেখিয়েছি যে ন্যায়সঙ্গত সুযোগ পেলে তারা তাদের পরিবার ও সমাজের সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধ করতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে খুঁজে বের করার বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে অঙ্গীকার করা।

মি ইসলাম বলেন যে বেঁচে থাকা, বিকশিত হওয়া এবং সাফল্য অর্জনের জন্য তাদেরকে সমান সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের চাহিদা নির্ধারণ এবং তার সমাধানের পরিকল্পনা তৈরিতে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ক সনদ এবং শিশু অধিকার সনদ স্বাক্ষর এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবারগুলোকে তাদের যত্ন নেওয়ার জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় তা মেটাতে সাহায্য করার জন্য সরকারগুলোকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ ।

এশিয়া ও প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানী নিরাপত্তা পরিকল্পনা

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৪টি দেশ জ্বালানী নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।

জাতিসংঘের উদ্যোগে রাশিয়ার ভ্লাডিভষ্টকে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপর্যায়ের এক আন্ত:সরকার আঞ্চলিক সম্মেলনে গৃহীত এক ঘোষণায় জ্বালানী নিরাপত্তা এবং তার টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন – এসক্যাপের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণায় সাতটি বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে – যেগুলো হোল : জ্বালানীতে অধিকার, জ্বালানী দক্ষতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানী, জ্বালানীর পরিবেশ, জ্বালানী অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং যোগাযোগ।

অভিবাসন বিষয়ে ইউরোপীয় নীতির সমালোচনায় জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ

জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে অভিবাসনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রমবর্ধমান হারে তার অযোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। কেননা, তারা অভিবাসীদের – বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের অধিকার সবসময় নিশ্চিত করতে পারছেনা।

অভিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, ফ্রাঁসোয়া ক্রেপো মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বলেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি কাঠামোর মধ্যে অভিবাসন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে নিরাপত্তা অবকাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলা হচ্ছে যাতে অধিকারভিত্তিক কৌশলের পরিবর্তে পুলিশীব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা এবং অপরাধের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মি ক্রেপো বলেন যে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সত্ত্বেও আমি দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালার ক্ষেত্রে অনিয়মিত অভিবাসনকে শুধুমাত্র নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয় হিসাবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

মি ক্রেপো বলেন যে অভিবাসীদেরকে আলাদা আলাদা ব্যাক্তি এবং সমানভাবে মানবাধিকারের অধিকারী হিসাবে বিবেচনা করে এমন মানবাধিকারভিত্তিক কৌশলের সাথে এই নীতি মৌলিকভাবে মেলে না।

অনিয়মিত অভিবাসীদেরকে অন্তরীণ রাখলে তা তাদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করে এমন কোন প্রমাণ না থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অনিয়মিত অভিবাসীদের আটক রাখার বিষয়টিকে একটি বৈধ হাতিয়ার হিসাবে গণ্য করার নীতিকে বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার অভিবাসন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে নিরাপত্তাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কৌশল হিসাবে উল্লেখ করেন।

শিশুমৃত্যুর হার কমানো ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি

কাউন্টডাউন টু টোয়েন্টি ফিফটিন বা ২০১৫'র ক্ষণগণনার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে বিশ্বের দরিদ্রতম কয়েকটি দেশ নবজাতক ও প্রসূতি মৃত্যুর হার অর্ধেকে বা তার চেয়েও নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

মা, নবজাতক ও শিশুর বেঁচে থাকার বিষয়ে জবাবদিহিতা শীর্ষক এক রিপোর্টে কয়েকটি দেশের প্রসূতিস্বাস্থ্যের উন্নতি এবং শিশুমৃত্যু হ্রাস বিষয়ে সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যান্য যেসব দেশ পিছিয়ে পড়েছে তাদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসূতি থেকে শিশুর মধ্যে এইচ আই ভি'র সংক্রমণ ঠেকানো, টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং হুপিং কাশির মতো প্রাণঘাতি রোগগুলোর প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির প্রসার এবং তার সাফল্য এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয় যে প্রসূতি, নবজাতক এবং শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, বর্ধিত বিনিয়োগ এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কিধরণের সাফল্য বয়ে আনতে পারে এগুলো তারই প্রমাণ।

রিপোর্টে বলা হয় যে জন্মদানের পর মা এবং নবজাতকের জীবনরক্ষায় নিউমোনিয়ার মতো রোগের হাত থেকে রক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবা এবং প্রসূতিসেবার সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগ প্রয়োজন।

পঁচাত্তরটি দেশের ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় দেখ গেছে ২০০০ সালের পর থেকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে রোয়ান্ডা, বতসোয়ানা এবং ক্যাম্বোডিয়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

স্বনিয়ন্ত্রিত মারণাস্ত্র রোবট ব্যবহারে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন হতে পারে

বিনাবিচারে হত্যাবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র্যা পোর্টিয়ার ক্রিষ্টোফ হেইনস বলেছেন যে স্বনিয়ন্ত্রিত মারণাস্ত্র রোবট ( লিথ্যাল অটোনোমাস রোবটস – এল এ আর ) ব্যবহারে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন হতে পারে এবং সেকারণে তিনি এগুলো তৈরি ও তা মোতায়েন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন যে এটা বন্ধ রাখা হলে এই অস্ত্রের ব্যবহার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থবহ এবং আন্তরিক আলোচনা সম্ভব হবে। এসব অস্ত্র কোন মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই হত্যাকান্ড পরিচালনায় সক্ষম।

স্বনিয়ন্ত্রিত মারণাস্ত্র রোবট স্বাধীনভাবে নিজে থেকেই পরিচালিত হয় এবং তাতে বসানো কম্পিউটার ঠিক করে কাকে হত্যার জন্য নিশানা করা হবে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে পেশ করা এক রিপোর্টে মি হেইনস বলেন যে স্বনিয়ন্ত্রিত মারণাস্ত্র রোবটের প্রচলন যুদ্ধ এবং শান্তিকালীন সময়ে মানুষের সুরক্ষা বিষয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন যে এর উৎপাদন এবং মোতায়েন ঠেকানো না গেলে কে মরবে আর কে বাঁচবে সেই সিদ্ধান্ত মানুষ নয় যন্ত্রের কাছে চলে যাবে।

মি হেইনস বলেন যে এল এ আর হিসাবে চিহ্ণিত করা যায় এমন পরিপূর্ণভাবে স্বনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র এখনও কোন দেশ ব্যবহার করছে না। তবে, তার প্রযুক্তি এখন পাওয়া যাচ্ছে অথবা শিগগিরই পাওয়া যাবে।

মি হেইনস বলেন যে এই ক্ষেত্রে তৎপর অনেকগুলো রাষ্ট্র অদূরভবিষ্যতে এটি ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছে। তবে, এটা পরিষ্কার যে প্রযুক্তি এবং বাজেট এর কারণে এর বিপরীতমুখী চাপটি প্রবল।

মি হেইনস বলেন যে নিপীড়ণকারী সরকারগুলো অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত দমনের জন্য এল এ আর ব্যবহার করতে পারে।

মি হেইনস বলেন যে এল এ আর এর বিষয়ে একটি ভবিষ্যত বিধিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এল এ আর উৎপাদন, মজুত, হস্তান্তর, সংগ্রহ , মোতায়েন এবং তার ব্যবহারের ওপর জাতীয় ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সব দেশের প্রতি মানবাধিকার পরিষদের আহ্বান জানানো উচিৎ।

মি হেইনস বলেন যে স্বনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র মোতায়েনকে একারণে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা উচিৎ যে এর জন্য আইনহত জবাবাদিহিতা বা দায়দায়িত্ব নির্ধারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনও উদ্ভাবিত হয় নি।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন