১৫:৩৯:৩৬

প্রতি পাঁচজনে একজন স্কুলে খাবার পাচ্ছে

শুনুন /

প্রতি পাঁচজন স্কুল ছাত্রের মধ্যে একজন এখন প্রতিদিন একবেলার খাবার পাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কমর্সূচির একটি নতুন রির্পোট।

শুক্রবার প্রকাশিত দি ষ্টেট অব স্কুল ফিডিং ওর্য়াল্ডওয়াইড এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উন্নত এবং উন্নয়নশীল সব দেশে সংকটকালে সরকারগুলো স্কুলে খাবার দেওয়ার কার্য্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করছে তার একটি র্পূণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ওই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বের একশো উনসত্তুরটি দেশে ছত্রিশ কোটি আশি লাখ শিশু দৈনিক একবেলার খাবার পাচ্ছে। এসব কমর্সূচিতে প্রায় সাত হাজার পাঁচশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে – যার প্রধান অংশ এসেছে সরকারগুলোর বাজেট থেকে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র এলিজাবেথ বার্য়াস বলেন যে যেসব স্থানে এই কার্য্যক্রম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে এর পরিব্যাপ্তি সবচেয়ে কম।

মিস বার্য়াস বলেন যে বাস্তবে যেসব দেশে চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেসব দেশেই শিশুরা এটা কম পাচ্ছে। স্বল্পআয়ের দেশগুলোতে শিশুদের মাত্র আঠারো শতাংশ এই স্কুলের খাবার পাচ্ছে, যেখানে মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই পরিমাণ হচ্ছে ৪৯ শতাংশ। এটা একটি সুরক্ষা জাল হিসাবে কাজ করছে।

দূর্যোগের জন্য শিশুদের প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন: ইউনিসেফ

জাতিসংঘের শিশু তহবিল, ইউনিসেফ এর ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, অ্যান্টনি স্প্যালটন বলেছেন যে দূর্যোগ আঘাত হানলে কি করতে হবে তা যাতে শিশুরা জানে সেটা নিশ্চিত করার জন্য কার্য্যক্রম প্রয়োজন।

মি স্প্যালটন বলছেন এসব কার্য্যক্রমে শিশুদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন এবং কি হলে তারা নিরাপদ মনে করবে সেই পরিপ্রেক্ষিতটা তারা যাতে তুলে ধরতে পারে সেই সুযোগটি তাদেরকে দিতে হবে।

তিনি বলেন শিশুরা হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকির্পূণ জনগোষ্ঠী এবং শিশুদের মধ্যেই আবার একদল অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন – যেমন প্রতিবন্ধী শিশুরা।

মি স্প্যালটন বলেন যে র্দূযোগের কারণে শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ে – যার পরিণতিতে তারা পাচার হয়ে যেতে পারে, তাদের সুরক্ষা এবং তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে।
মি স্প্যালটন বলেন যে অন্যদিকটি হচ্ছে এটা নিশ্চিত করা যে শিশুটি যেন জানে যে র্দুযোগের সময় কি করতে হবে। তারা কী স্কুলের জন্য প্রস্তুত? একটা ভূমিকম্প হলে কি করতে হবে? ডেস্কের নিচে লুকানো, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ডেস্কের একটি পা ধরে থাকার মতো গুরুত্বর্পূণ প্রয়োগিক বিষয়গুলো? অন্য আরেকটি দিক হচ্ছে শিক্ষার বিষয়, সাঁতারের মতো দৈনন্দিন জীবনধারার বিষয়ে দক্ষতার প্রশ্নগুলো স্কুলের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সরকারগুলোর সাথে কাজ করা।

অ্যান্টনি স্প্যালটন জেনেভায় র্দূযোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে চর্তূথ বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকালে এসব কথা বলেন।

পোশাকশিল্পে আমূল সংস্কারের আহ্বান জানালেন নাভি পিল্লাই

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, নাভি পিল্লাই পোশাকশিল্পের আমূল সংস্কার এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গত সতেরোই মে শুক্রবার তিনি এই আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এই প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে হাইকমিশনার এই শিল্পে তদারকি এবং পরিদশর্নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন যে এই ইস্যুটি শুধুমাত্র যে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য তা নয়। এক্ষেত্রে, ব্যবসায়ীরা এবং সরকারগুলোর করণীয় কি কি সেবিষয়ে দু'বছর আগে জাতিসংঘ একগুচ্ছ নির্দেশনামূলক নীতিমালার প্রশ্নে সম্মত হয়েছিলো। শ্রমিকদের অধিকার লংঘন করে যাঁরা – তাঁদেরকে ঠেকানো, সাজা দেওয়া এবং তার প্রতিকারের জন্য সরকারগুলোর কার্য্যকর নীতি থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদেরকেও শ্রমিকদের অধিকার হরণ ঠেকানো এবং তার প্রতিকারে অবশ্যই ভূমিকা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূক্তভোগীদের কার্য্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মুখপাত্র আরো বলেছেন যে বাংলাদেশ থেকে যেসব বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তাদের পোশাক কিনে থাকে তাদের দিকে নজর দিতে গিয়ে র্দূঘটনা প্রতিরোধ, তার প্রতিকার এবং জবাবদিহিতার বিষয়ে কারখানামালিক ও সরকারগুলোর দায়িত্ব ও কতর্ব্য পালনে যেন বিচ্যূতি না ঘটে।

জীববৈচিত্র রক্ষা ছাড়া ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা ঝুঁকির মুখে : বান

আর্ন্তজাতিক জীববৈচিত্র দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব, বান কি মুন বলেছেন যে আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি যেখানে সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং পানির গুণগত মান প্রায়শই যখন ন্যূনতম মানের চেয়েও খারাপ হয়ে যাচ্ছে পানিপ্রাপ্যতার সেরকম এক ঝুঁকির্পূণ পরিস্থিতিতে এখন যে প্রবণতা লক্ষ্যণীয় তাতে ভবিষ্যতে পানির চাহিদা পুরণ হবে না।

মহাসচিব বলেন যে পানি সরবরাহ নিশ্চিতকারী ভবিষ্যতের লক্ষ্য অজর্নের মূলে রয়েছে জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করা। পরিবেশগত ভারসাম্য পানির স্থানীয়, আঞ্চলিক ও পর্য্যায়ের প্রাপ্যতা ও তার গুণগত মানকে নিশ্চিত করে বলে উল্লেখ করে মি বান বলেন বনাঞ্চল ভূমিধসকে প্রতিরোধ করে এবং পানির গুণগত মান এবং সরবরাহ সুরক্ষিত করে, জলাভূমি বন্যার ঝুঁকি কমায় এবং মাটির জীববৈচিত্র ফসলের জন্য পানির প্রাপ্যতা বজায় রাখে।

মি বান বলেন যে আপাতদৃশ্যে পানির প্রাচূর্য্য দেখা গেলেও বিশ্বে সহজে পাওয়া যায় এমন বিশুদ্ধপানির পরিমাণ খুবই সামান্য। মহাসচিব জীববৈচিত্র বিষয়ক সনদে স্বাক্ষরকারী সবার প্রতি তা অনুমোদনের আহ্বান জানান।

দারিদ্র দূরীকরণের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বর্পূণ: বিশ্বব্যাংক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালনা পরিষদের বার্ষিক সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান জিম ইয়ং কিম বলেছেন ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে চরম দারিদ্র থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য অজর্নের জন্য সব দেশকে তাদের সব নাগরিকের জন্য সামর্থ্যের মধ্যে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন যে দারিদ্রের অবসান ঘটাতে সব দেশের যেমন অর্ন্তভুক্তিমূলক এবং জোরালো প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন তাদের সব নাগরিকের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার উন্নয়নে বিনিয়োগ।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজনে সামর্থ্যের বাইরে ব্যয় করার কারণে বছরে অন্তত দশ কোটি মানুষ চরম দারিদ্রে নিপতিত হন আর প্রায় পনেরো কোটি মানুষ চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হন। এটা লোকজনকে কষ্টের মধ্যে নিপতিত করে এবং রোগাক্রান্ত ব্যাক্তির দূর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বিস্তৃত করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার সুফল পৌঁছাতে পারা যেকোন দেশের জন্যই গুরুত্বর্পূণ – কেননা, এর ফলে জনগোষ্ঠীর সামর্থ্য বৃদ্ধি পায় যাতে তারা তাদের জীবন বদলানোর লক্ষ্যে উন্নত চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়।

জিম ইয়ং কিম বলেন যে অথর্নৈতিক বৈষম্য দূরের মাধ্যমে সবার জন্য ন্যায্য সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে কোন দেশের অর্থথনীতিতে প্রাণসঞ্চার করতে হলে আমাদেরকে স্বাস্থ্যখাতের এই বৈষম্য দূর করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন যে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ছিলো তা অর্জনের জন্য সবদেশকে সহায়তা করতে বিশ্বব্যাংক আগ্রহী ছিলো এবং সেটা স্বাস্থ্যখাতে সাম্য প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যাংকের অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বর্পূণ পরীক্ষা।

২০১৫-উত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সম-অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞ, মঙ্গলবার ২০১৫-উত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সম-অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতার বিষয়গুলোতে জরুরূভিত্তিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাধীন এসব বিশেষজ্ঞরা বলেন যে আমরা যখন একটি গুরুত্বর্পূণ পর্য্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছি তখন আমাদের ভূলে গেলে চলবে না যে প্রায় একশো কোটি মানুষকে আমরা এখনও ক্ষুধা এবং দারিদ্রের মধ্যে ফেলে রেখেছি। তাঁরা বলেন যে বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে আমরা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি।

তাঁরা যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তা হোল কার ক্ষতির বিনিময়ে কে লাভবান হচ্ছে সেই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে। এগুলোকে অবশ্যই গৎবাঁধা গড় লক্ষ্যমাত্রা হতে দেওয়া যায় না যা সবচেয়ে ঝুঁকির্পূণ গোষ্ঠীগুলোকে উপেক্ষা করে এবং পদ্ধতিগত অবিচারকে না ছুঁয়ে আমাদেরকে হাতের নাগালে থাকা ফল তুলতে প্রলুব্ধ করে।

এসব বিশেষজ্ঞ ২০১৫-উত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আলাদা আলাদাভাবে এবং পারস্পরিক সম্পকর্যুক্ত লক্ষ্যগুলোতে বৈষম্য দূর করা, সামাজিক সুরক্ষার একটি ন্যূনতম অবস্থান নির্ধারণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্য্যায়ে দেশগুলোর জবাবদিহিতার একটি দ্বৈত কৌশল।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন