১৭:৪৫:১৫

জলবায়ূ পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিতর্ক

শুনুন /

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জলবায়ূ পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিজ্ঞানী, বাণিজ্যখাতের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এক বিতর্কে অংশ নেন। বিশ্বের জ্বালানী ও পানিসম্পদ সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ এর ওপর এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমীরাতের প্রতিমন্ত্রী এবং জ্বালানী ও জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ দূত, ডঃ সুলতান আহমেদ আল জাবের বলেন যে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে একটি ভারসাম্য আনার মাধ্যমেই টেকসই ভবিষ্যত অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন যে এই ভারসাম্য আনয়নের বিষয়টি নির্ভর করে তিনটি পরস্পরসম্পর্কযুক্ত উপাদান- পানি, জ্বালানী এবং খাদ্যের ওপর।

ডঃ আল জাবের বলেন যে জ্বালানী উত্তোলন এবং বিদ্যূৎ উৎপাদনের জন্য পানির প্রয়োজন। পানি পরিশোধন এবং পরিবহনের জন্য প্রয়োজন জ্বালানী। আর জ্বালানী এবং পানির ওপর নির্ভর করে খাদ্যের উৎপাদন।

ডঃ আল জাবের বলেন যে এই তিনটি উপাদানের প্রাপ্যতা অব্যাহত থাকার নিশ্চয়তা ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন গতিলাভ করবে না এবং দারিদ্র ও সংঘাত ঠেকানো যাবে না।

দরিদ্র দেশগুলোতে স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি হলেও বৈষম্য রয়ে গেছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও জানিয়েছে যে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, পুষ্টির হার বৃদ্ধি এবং ম্যালেরিয়া, যক্ষা ও এইচ আই ভি'র মতো রোগের সংক্রমণ ও সেগুলো থেকে মৃত্যুর হার হ্রাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

বার্ষিক বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করে সংস্থা বলছে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা – এম ডি জি অর্জনের উদ্যোগসমূহের ফলে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দূরত্ব কমেছে।
সবচেয়ে বেশী দারিদ্রপীড়িত দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর হার ১৯৯০ সালে যেখানে ছিলো প্রতি হাজারে ১৭১ সেখানে ২০১১ সালে তা নেমে এসেছে ১০৭ জনে। প্রসবকালীন প্রসূতি মৃত্যুর হার প্রতি এক লাখ জন্মের ক্ষেত্রে ৯১৫ থেকে কমে হয়েছে ৫০০ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডঃ টিয়েস বোয়ের্মা বলছেন যে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের ফারাক যদিও কমেছে, তবুও তা মোটেও সন্তোষজনক নয় – কেননা, সবক্ষেত্রে সমান অগ্রগতি অর্জিত হয় নি এবং বিভিন্ন দেশ ও দেশগুলোর ভিতরেও বড়ধরণের পার্থক্য রয়ে গেছে।

ডঃ বোয়ের্মা বলেন যে আপনি যদি শিশুমৃত্যুর বিষয়টি দেখেন তাহলে দেখা যাবে বাংলাদেশ, ভুটান, লাওস, মাদাগাস্কার, নেপাল, রোয়ান্ডা, সেনেগাল, তিমুরলেষ্টের মতো দেশগুলো সবচেয়ে খারাপ পঁচিশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে। যেসব দেশ অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি সেগুলোতে রয়েছে সংঘাত – যেমন চ্যাড, নিজের কিম্বা সোমালিয়া। আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি সেটা হোল যেসব দেশ সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে সেসব দেশে অগ্রগতি হয়েছে নাটকীয় – যেমন রোয়ান্ডা। ক্যাম্বোডিয়ার মতো দেশের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি অবশ্য কিছুটা কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যক্ষায় মৃত্যুর হার ১৯৯০ এর তুলনায় কমেছে চল্লিশ শতাংশ এবং প্রবণতা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে ২০১৫ নাগাদ তা কমবে পঞ্চাশ শতাংশ।

বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পারে: বান

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এক রিপোর্ট প্রকাশের সময় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বুধবার বলেছেন যে দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণর বাইরে চলে গেছে এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর প্রাথমিক দায়িত্বটি সরকারের।

মি বান বলেন যে এই ক্ষতি একমাত্র বেসরকারী খাতের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই কমানো সম্ভব। তিনি এক্ষেত্রে বিনিয়োগ ব্যাংক এবং বীমা কোম্পানীগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে ধারাবাহিক ও সহনীয় মাত্রার লাভ-ক্ষতির পরিবর্তে বাজারগুলো খুব দীর্ঘ সময় ধরে স্বল্পমেয়াদী মুনাফাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন যে দেরিতে হলেও শেষপর্য্যন্ত আমরা বুঝতে শুরু করেছি যে দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে বিনিয়োগ আসলে খরচ নয় বরং দীর্ঘমেয়াদের জন্য তা বিনিয়োগকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।

মি বান বলেন যে জাপানের ফুকুশিমার দূর্যোগ থেকে শুরু করে থাইল্যান্ডের বন্যা কিম্বা নিউইয়র্কের হ্যারিকেন স্যান্ডি – এগুলোতে বিশ্ব দেখেছে যে প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিভাবে অবকাঠামোর ক্ষতি করে এবং উৎপাদন বাধাগ্রস্থ করে।

মি বান বলেন যে অর্থনৈতিক পূর্বাভাষ এবং প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যতবাণীতে এতোদিন এইসব দূর্যোগের ঝুঁকি যেভাবে দৃষ্টির বাইরে থেকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে তা আর অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। অধিকাংশ অর্থনীতিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কোন না কোনভাবে তাঁদের আয়ের জন্য বেসরকারী খাতের উপর নির্ভরশীল।

মি বান বলেন যে ব্যবসা-বাণিজ্যকে অবশ্যই ঝুঁকিসচেতন হতে হবে।

মহাসচিব বান বলেন যে দূর্যোগ-ঝুঁকি প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে তিনি জনগোষ্ঠীকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার কারণ হিসাবে দারিদ্র, দ্রুত নগরায়ণ, আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন।

কেনিয়ার সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী হচ্ছেন আঙ্কটাডের নতুন প্রধান

কেনিয়ার একজন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীকে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের প্রধান হিসাবে বাছাই করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন জানান যে তিনি এবছরের পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে চার-বছর মেয়াদের জন্য আঙ্কটাডের প্রধান পদে মুখিসা কিতুইকে মনোনীত করেছেন।

এই মনোনয়ন এখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত হবে এবং তা অনুমোদিত হলে মি কিতুই থাইল্যান্ডের সুপচাই পানিৎচপাকদির স্থলাভিষিক্ত হবেন। মি পানিৎচপাকদি গত ২০০৫ সাল থেকে এই পদে নিয়োজিত ছিলেন।

উন্নয়নের জন্য দরকার দারিদ্রের উৎস মোকাবেলা : ক্যামেরন

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা – এম ডি জি–উত্তর উন্নয়ন কৌশল ঠিক করার জন্য গঠিত জাতিসংঘ প্যানেলের কো-চেয়ারম্যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ডেভিড ক্যামেরন বুধবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেছেন যে চলতি প্রজন্মেই চরম দারিদ্রের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আটটি বিষয় দরিদ্রদের পক্ষে বৈশ্বিক কার্য্যক্রমকে সমৃদ্ধ করলেও মি ক্যামেরন বলেন যে প্যানেল মনে করে যে দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আইনের শাসন এবং সংঘাত ও সহিংসতার প্রভাবগুলোর গুরুত্ব উপেক্ষিত হয়েছে।

তিনি বলেন যে এমাসের আরো পরের দিকে প্যানেলের যে প্রতিবেদন পেশ করা হবে তাতে দারিদ্রের উপর্সগ নয়, বরং, এর কারণগুলো মোকাবেলায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মি ক্যামেরন বলেন যে সর্বোপরি দারিদ্র থেকে জনগোষ্ঠীকে বের করে আনার জন্য অথর্নৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে জোরালো বেসরকারী খাতকে সবচেয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসাবে বিবেচনার দিকে নজর দিতে হবে।

মি ক্যামেরন বলেন যে পৃথিবীর উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে যে টেকসই হতে হবে সেটির স্বীকৃতি প্রয়োজন। কেননা, সংঘাত এড়াতে, আইনের শাসন সুরক্ষায়, দূর্নীতি এবং নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটাতে এবং সরকারগুলোর জবাবদিহিতার জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং সুশাসনের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকার করা প্রয়োজন।

মি ক্যামেরন বলেন যে আমার বিশ্বাস এটা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় নতুন সংযোজন। সুশাসন এবং দূর্নীতি থেকে মুক্তিকে আমি উন্নয়নের 'সোনালী সূতা' বলে মনে করি।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ২০১৫-উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা বিষয়ে এই উচ্চপর্য্যায়ের প্যানেলটি গঠন করেন গতবছরের জুলাই মাসে। প্যানেলের অপর দুই কো-চেয়ারম্যান হলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো ব্যামব্যাং ইয়োধোইয়োনো এবং লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আইলিন জনসন সারলিফ।

বিশ্ব পরিবার দিবসে নবীন ও প্রবীণের বন্ধন জোরদারের আহ্বান

একটি সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য সব প্রজন্মের মধ্যে সংহতি সৃষ্টির উদ্যোগগুলোর প্রসারে সেগুলোর প্রতি সাহায্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।
পনেরোই মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বান কি মুন নবীন এবং প্রবীণদের মধ্যে বন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে দেয় যেসব উদ্যোগ সেগুলোর উপকারিতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন যে পরিবার সমাজকে বন্ধনে ধরে রাখে এবং প্রজন্মগুলোর মধ্যেকার সম্পর্ক টিকে থাকে। সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রবণতাগুলো যেভাবে পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে সেগুলোর প্রতি আলোকপাত করেন মি বান।

উদাহরণ হিসাবে তিনি যুব বেকারত্ব, সামর্থ্যের মধ্যে উন্নত শিশু পরিচর্য্যা সেবার দুষ্প্রাপ্যতা, এবং বয়স্কদের জন্য পর্য্যাপ্ত পেনশন সুবিধার ব্রবস্থা না থাকার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন যে এসব সমস্যা পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা দেবার বিষয়টিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন