১৭:০৮:৪৭

শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার মানব নিরাপত্তার অংশ : বান

শুনুন /

মানব নিরাপত্তাবিষয়ে উচ্চপর্য্যায়ের এক অনুষ্ঠানে বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে আমরা এখন এমন এক সময় পার করছি যখন বড়ধরণের রুপান্তর ঘটছে এবং তোলপাড় চলছে। একইসময়ে বিশ্বজুড়ে নাগরিকরা ন্যায়বিচারের জন্য সোচ্চার হচ্ছেন।

মহাসচিব বলেন যে বিশ্বব্যাপী অনেক বেশী সংখ্যক লোক এখন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

তবে তিনি বলেন যে আমাদের লক্ষ্য সবসময়েই জনগণের ক্ষমতায়ন, প্রধান প্রধান চরিত্রদেরকে একজায়গায় নিয়ে আসা এবং জটিল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।

মি বান বলেন যে শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের যোগসূত্রগুলোকে মানব নিরাপত্তার কৌশলে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই তহবিলের প্রকল্পগুলো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের ধারায় উত্তরণে সহায়তা করেছে।

মি বান বলেন যে তাঁরা সফল হয়েছেন কেননা তাঁরা জনগণের চাহিদার দিকে নজর দিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন সংস্থা ও বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়েছেন। আমরা যেগুলোকে প্রথাগত মানবিক বা উন্নয়ন কার্য্যক্রম বলে ভেবে থাকি তাঁরা সেগুলোকে ছাপিয়ে গেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর নাটকীয় ঘটনাবলী থেকে মানব নিরাপত্তার বিষয়ে দুটো শিক্ষা পাওয়া যায় – প্রথমত: বিশ্বের পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত সমস্যাগুলোর একটি সমন্বিত সমাধান খোঁজা এখন সবচেয়ে বেশী জরুরী এবং দ্বিতীয়ত আমাদের সমন্বিত কৌশলকে অবশ্যই ব্যাপকভিত্তিক হতে হবে।

মহাসচিব বলেন যে মানব নিরাপত্তার কৌশলে নাগরিকদের রক্ষায় সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মত মানব নিরাপত্তা বিষয়ে সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিলো তা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

২০১৩ সালে শস্যের ফলন ভালো হবে : এফ এ ও

জাতিসংঘের খাদ্য ও কুষি সংস্থা – এফ এ ও বলেছে যে ২০১৩ সালে গম ও চালের বৈশ্বিক উৎপাদন বেশ ভালো হবে।

সংস্থার প্রকাশিত মাসিক শস্য চাহিদা ও সরবরাহ প্রকাশনার মে সংখ্যায় এই প্রাথমিক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সংস্থা বলছে যে ২০১৩ সালে বিশ্বে গম উৎপাদনের পরিমাণ সাড়ে উনষাট কোটি টনে পৌঁছুবে বলে আশা করা হচ্ছে যা গতবছরের তুলনায় পাঁচ দশমিক চার শতাংশ পরিমাণে বেশী। অবশ্য, এক্ষেত্রে ২০১২ সালের তুলনায় আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা বলছে যে বিশ্বে মোটা দানার শস্য উৎপাদন এবছরে একশো ছাবিবশ কোটি ষাট লাখ টনে পৌঁছুবে – যা এর আগের সর্বে্বাচ্চ রেকর্ড ২০১১ সালের চেয়েও নয় দশমিক তিন শতাংশ বেশী।

এফএও'র হিসাবে ২০১৩ মৌসুমে ধান উৎপাদনের পরিমাণ পঞ্চাশ কোটি টনের কাছাকাছি হবে – যার প্রধান কারণ হিসাবে সংস্থা আশা করছে যে ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ায় এর বড় আকারে উ্ৎপাদন বৃদ্ধি ঘটবে।

বিশ্ব বাণিজ্যকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য জাতিসংঘের আহ্বান

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি – ইউ এন ই পি'র এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব বাণিজ্যকে পরিবেশবান্ধব করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

এই রুপান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলো অনুঘটকের ভূমিকা রাখতে পারে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়্।

গ্রীণ ইকোনমি এন্ড ট্রেড – ট্রেন্ডস, চ্যালেঞ্জেস এন্ড অপারচুনিটিস শীর্ষক এই রিপোর্টে শিল্পপণ্য, ভ্রমণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানীসহ মোট ছয়টি অর্থনৈতিক খাতকে চিহ্নিত করে বলা হয় যে এসব ক্ষেত্রে বাণিজ্যে রুপান্তরের সুযোগ রয়েছে।

জ্বালানী বিষয়ে সংস্থাটি বলছে উন্নয়নশীল দেশগুলো সৌরবিদ্যূৎের প্যানেলের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানীর নানা উপকরণ, উইন্ড টারবাইন, এবং সৌরতাপে পানি গরম করার চুল্লির রপ্তানী উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়াতে পেরেছে এবং তারা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যূৎ রপ্তানীর সম্ভাবনা পর্য্যন্ত তা বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

ইউ এন ই পি'র নির্বাহী পরিচালক, আখিম ষ্টেইনার এই অগ্রগতিতে তাঁর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মি ষ্টেইনার বলেন যে দূষণমুক্ত জ্বালানী প্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজারে গত দশ বছরে যেটা আমরা ঘটতে দেখেছি তাকে সংখ্যার বিবেচনায় নাটকীয় বলা চলে। এমনকি, গত কয়েকবছরের আর্থিক সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও দুষণমুক্ত জ্বালানী প্রযুক্তির প্রসার ঘটেই চলেছে।

মি ষ্টেইনার বলেন যে ২০১২ সালে দূষণমুক্ত জ্বালানী প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে চব্বিশ হাজার কোটি ডলার।

২০১৩ সালে ৭ কোটি ৩০ লাখ তরুণ বেকার থাকার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও বলছে যে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার গতি শ্লথ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তরুণরা কাজ পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ফর ইয়ূথ ২০১৩ শীর্ষক রিপোর্টে আই এল ও বলছে যে তাদের অনুমান ২০১৩ সালে বিশ্বে প্রায় সাত কোটি চল্লিশ লাখ তরুণ বেকার থাকবে যা মোট জনসংখ্যার প্রায় বারো দশমিক ছয় শতাংশ।

সংস্থা বলছে যে ২০০৯ সালে বিশ্বমন্দা যখন তুঙ্গে তখন যুববেকারত্ব যে শীর্ষে পৌঁছেছিলো এই সংখ্যা তার প্রায় কাছাকাছি।

মিশরের প্রস্তাবিত আইনে জাতিসংঘের উদ্বেগ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, নাভি পিল্লাই মিশরের সুশীল সমাজ বিষয়ক আইনের বর্তমান খসড়া সম্পর্কে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রস্তাবিত আইনের বিধানগুলো আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মিস পিল্লাই হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন যে এই আইন অনুমোদিত হলে বেসরকারী সংস্থাগুলোর কার্য্যকলাপ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

এসব সংগঠনের গঠনমূলক ভূমিকা একটি অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের ভবিষ্যত দিকনিদর্দেশনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন ২০১১'র মিশরীয় বিপ্লবের সময় যে আশা-আকাঙ্খার জাগরণ ঘটেছিলো তার প্রতি এটি আঘাত হিসাবে বিবেচিত হবে।

হাই কমিশনারের মুখপত্র, রুপার্ট কলভিল বলেন যে একটি অধিকতর সাম্যভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক নতুন মিশর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মি কলভিল বলেন যে আমরা আশা করবো যে তাঁরা এটি ঠিক করে নেবেন কেননা তার একটা কল্যাণকর প্রভাব রয়েছে। কিন্তু, এপর্য্যন্ত আমরা যে খসড়া দেখেছি তাতে সমস্যা সৃষ্টিকারী বেশ কিছু উপাদান রয়েছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদারকি ক্ষমতা দেওয়া। একইভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে এতে যুক্ত করা।

মি কলভিল বলেন যে এটা খুবই সমস্যাজনক , কেননা, এসব মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মিশরীয় কত্তৃপক্ষের ক্ষমতা অপব্যবহারের সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অনেকটা শেয়ালের কাছে মুরগি রাখতে দেওয়ার মতো।

মিস পিল্লাই বেশ কিছু বিষয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার পটভূমিতে একে একটি সংকটকালীন মুহূর্ত হিসাবে অভিহিত করেন।

প্রায় ৭০ লাখ সিরীয় নাগরিকের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন : জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মানবিক কার্য্যক্রম সমন্বয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর, ও সি এইচ এ বলছে যে সিরিয়ার ভিতরে প্রায় সত্তুর লাখ লোকের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং এদের অর্ধেকই শিশু।

সংস্থা বলছে যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত লোকজনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং তাদের অবস্থা অনিশ্চিতকর, কেননা অনেককেই একাধিকবার তাঁদের অবস্থান বদলাতে হয়েছে।

গত কয়েকমাসে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত লোকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশী পরিমাণে বেড়ে েবিয়াল্লিশ লাথে দাঁড়িয়েছে।

ও সি এইচ এ'র জেনস লীয়ার্ক বলছেন নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিভিন্নসংস্থার মাধ্যমে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের কাজ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

জেনস লীয়ার্ক বলেন যে সামগ্রিকভাবে জানুযারী থেকে এপ্রিলের মধ্যে যেসব এলাকায় যোগাযোগ কঠিন সেরকম এলাকাগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ মোট সাত লাখ চৌষট্টি হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যে দশটি ত্রাণবহর পাঠানো হয়েছে তার পাঁচটি গেছে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় এবং অপর পাঁচটি বিরোধপূর্ণ এলাকায়। আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণে তেমন একটা অগ্রগতি ঘটেনি। এখনও প্রত্যেকটি ত্রাণবহরের জন্য বিভিন্ন পর্য্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এবিষয়ে আমরা এখনও সিরীয় সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছি।

জাতিসংঘ জানায় সিরিয়া থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় সাড়ে আট লাখে পৌঁছেছে।

এদিকে, জাতিসংখ্যা জনসংখ্যা তহবিলের নির্বাহী পরিচালক, বাবাটুন্ডে অসোতিমেইন বলেছেন যে সিরীয় সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের জন্য আরো অনেক কিছু করা দরকার। সম্প্রতি তুরস্কে নিযিপের একটি শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পর তিনি একথা বলেন। সেখানে দশ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

তিনি তুরস্কের প্রশংসা করে বলেন যে তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য হোল গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের চাহিদা এবং যাঁরা যৌন সহিংসতার শিকার তাঁদের জরুরী সাহায্যের বিষয়টিতে আলোকপাত করা।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন