২২:০৩:২৯

সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ প্রয়োজন : বান

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে সব সাংবাদিকের নিরাপদে তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিৎ, কেননা যখন নিরাপদে কথা বলা যায় তখন পুরো বিশ্বই উপকৃত হয়।

বৃহস্পতিবার বিংশতি বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কে 'কথা বলা নিরাপদ: সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' শীর্ষক এক সভায় মহাসচিব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন যে সাংবাদিকরা সরকার, কর্পোরেশন, অপরাধী চক্র, মিলিশিয়া এবং অন্য যারা তাদের অনুসন্ধানকাজকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

সারাবিশ্বে সাংবাদিকদের আক্রমণের লক্ষবস্তু করা হয় বলে মহাসটিব দুঃখপ্রকাশ করেন।

মি বান বলেন যে এই আক্রমণের লক্ষ্য এখন প্রথাগত রেডিও, প্রিন্ট এবং টেলিভিশনকে ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, ব্লগ এবং নাগরিক-সাংবাদকতাতেও বিস্তৃত হয়েছে। এবং এই হুমকি এখন আর শুধু শারীরিক নয়, সাইবার আক্রমণ, আইনগত ক্ষমতা ব্যবহারের চেষ্টা ইত্যাদি এখন ভয় দেখানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

মি বান বলেন যে যারা এর চরম মূল্য দিচ্ছেন তাঁদের পাশাপাশি শত শত সাংবাদিককে আটক করা হচ্ছে। প্রহসনের বিচার অথবা সাজানো অভিযোগের ফল হিসাবে অনেককেই নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হচ্ছে।

সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের দূর্ভোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ইউনেস্কোর সুপারিশে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাব অনযায়ী প্রতিবছর তেসরা মে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়ে থাকে।

গুয়ানতানামোয় আন্তর্জাতিক আইন লংঘিত হচ্ছে : জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গুয়ানতানামো নৌঘাঁটিতে আটক বন্দীদের জীবন, স্বাস্থ্য এবং ব্যাক্তিগত ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা ও তা সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঐ বন্দীশিবিরে ১৬৬ জনের মধ্যে একশোজন বন্দী অনশন করতে থাকার পটভূমিতে একুশজনকে নাকের মধ্যে টিউব ঢুকিয়ে জোর করে খাওয়ানোর কথিত সংবাদ প্রকাশের পর এসব বিশেষজ্ঞ এই আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন যে এসব বন্দীদের জীবনের মৌলিক দিকগুলোকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে তাদের যে মারাত্মক এবং প্রলম্বিত শারীরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে সেবিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার মুখপত্র রুর্পাট কলভিল বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার বিষয়ে তাঁদের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লংঘন করছে।

মি কলভিল বলেন যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলো হোল কার্য্যত একতরফা আটকাদেশ। কিছু ব্যাক্তি কোন অভিযোগ ছাড়াই , তাদেরকে কোন আদালতের সামনে হাজির না করে এবং তারা কোনধরণের অপরাধী হিসাবে সাব্যস্ত না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আটক আছেন সাত, আট, নয়, দশ এগারো বছর ধরে এবং যেকোন সংজ্ঞাতেই তা একতরফা আটকাদেশ বা আর্বিট্রারি ডিটেনশন এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লংঘন।

মি কলভিল বলেন যে বিষয়টা অবশ্য এতোটা সাধাসিধে নয়।সেখানে বেশ কিছু জটিলতা আছে। স্পষ্টতই সেখানে কিছু বিপজ্জনক ব্যাক্তি আছেন যাদেরকে এখনও আটক রাখা হয়েছে , কিন্তু শুধু এধরণের একটি বন্দীশিবির প্রতিষ্ঠা করে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল রাখা যায় না।

মি কলভিল বলেন যে গুয়ানতানামোর সামরিক বন্দীশিবিরে অর্নিদিষ্টকালের জন্য আটক রাখার বিধান করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবছরের গোড়ার দিকে যে আইন করেছে তা সংশোধন করা প্রয়োজন।

২০১২ ছিলো নবম উষ্ণতম বছর : ডাব্লু এম ও

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, ডাব্লু এম ও নিশ্চিত করেছে যে ২০১২ সাল ছিলো উষ্ণতর একটি বছর এবং বছরটির গোড়ার দিকে লা নিনার শীতলীকরণের প্রভাব সত্ত্বেও বছরটি রেকর্ডের অন্যতম একটি উষ্ণতম বছর।

ডাব্লুএমওর হিসাবে ১৮৫০ সাল থেকে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে এটি ছিলো নবম উষ্ণতম বছর এবং পরপর সাতাশতম বছর হিসাবে বিশ্বের ভূমি ও সমুদ্রের তাপমাত্রা এবছর ১৯৬১ থেকে ১৯৯০এর গড় তাপমাত্রার উপরে ছিলো। ২০০১ থেকে ২০১২ সালের প্রত্যেকটিই রেকর্ডের তেরোটি উষ্ণতম বছরে স্থান করে নিয়েছে।

সংস্থা বলছে যে ক্ষতিকর গ্যাসের ঘনীভূত স্তর বায়ূমন্ডলে উর্ধ্বমূখী হতে থাকায় বিকিরণগত শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে বিশ্বের উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকবে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দূর্যোগ মোকাবেলায় বিনিয়োগের আহ্বান

এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চল হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দূর্যোগপ্রবণ এলাকা যেখানে ১৯৭০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিভিন্ন দূর্যোগে প্রায় কুড়ি লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং বড়ধরণের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে এক আলোচনায় জাতিসংঘের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন এসক্যাপের প্রধান ডঃ সোয়েলিন হেইযার এই তথ্য জানিয়ে বলেন যে দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারগুলোকে ভূমিকা নিতে হবে।

ডঃ হেইযার বলেন যে সরকারগুলোকে অবশ্যই পুনরুজ্জীবনের চেয়ে প্রতিকার এবং প্রস্তুতিকাজে বিনিয়োগ করতে হবে , কেননা, তার খরচ কম এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তা খুবই সাধারণ।

ডঃ হেইযার উদাহরণ হিসাবে ভবন নির্মাণের বিধিমালা এবং ঝুঁকির্পূণ ভবনেগুলোর ত্রুটি দূর করা এবং আঞ্চলিক অর্থব্যবস্থাপনার নীতিতে সমন্বয় সাধন ও আন্ত-সীমান্তে প্রবাহিত নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদার করার কথা উল্লেখ করেন।

ডঃ হেইযার দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন – যাতে দুর্যোগের ধাক্কায় ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।

সামাজিক সুরক্ষা কার্য্যক্রম শিশুশ্রম দূর করায় গুরুত্বর্পূণ

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সামাজিক সুরক্ষার নীতি শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রাখতে পারে যা বিশ্বে প্রায় সাড়ে একুশ কোটি শিশুর জীবনে প্রভাব ফেলছে।

শিশুশ্রম মোকাবেলায় অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে আইএলও'র এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বিভিন্নধরণের সামাজিক সুরক্ষা পদ্ধতি কীধরণের ফল দিচ্ছে তা পর্য্যালোচনা করে দেখেছে।

এতে দৃষ্টান্ত হিসাবে ব্রাজিলের বলসা পারিবারিক নগদ র্অথ সহায়তা কার্য্যক্রমের উল্লেখ করে বলা হয় যে তা শহর এবং গ্রাম – উভয় এলাকাতেই শিশুশ্রম কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করেছে। এধরণের আরো কয়েকটি দেশের একইধরণের কার্য্যক্রমের দৃষ্টান্ত দিয়ে আইএলও শিশুশ্রম নির্মূল কর্মসূচির পরিচালক কনষ্টান্স থমাস বলেন যে এই প্রতিবেদনে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে জাতীয়পর্যায়ে সুরক্ষার ন্যূনতম মান ঠিক করে এধরণের সামাজিক সুরক্ষা কার্য্যক্রম পরিচালনা করলে তা শিশুশ্রম দূর করায় গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষুধাশূণ্যতার চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘ এশিয়ার সরকারগুলো, কৃষক, বিজ্ঞানী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান , নাগরিক গোষ্ঠী এবং ভোক্তাদের প্রতি ঐ অঞ্চলে ক্ষুধার অবসান ঘটানোর জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সোমবার ঐ অঞ্চলের নেতাদের উপস্থিতিতে 'ক্ষুধা শূণ্যতার চ্যালেঞ্জ' বা জিরো হাঙ্গার চ্যালেঞ্জ কার্য্যক্রমের সূচনায় এই আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব, ইয়ান এলিয়াসেন বলেন যে এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহুরাষ্ট্র খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মি এলিয়াসেন বলেন যে ক্ষুধাকে পরাস্ত করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব এবং কর্তব্য। যে বিশ্বে সবার জন্য পর্য্যাপ্ত খাদ্য আছে সেই বিশ্বে এতো বিপুলসংখ্যক লোককে ক্ষুর্ধাত রেখে বসে থাকার অবকাশ নেই। এটা খুবই সোজাসাপটা বিষয়। সেজন্যই মহাসচিব বান কি মুন রিওতে ক্ষুধাশূণ্যতার চ্যালেঞ্জ সূচনা করেছেন এবং সেকারণেই আজ এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় এলাকায় আজ এই উদ্যোগ শুরু হচ্ছে।

মি এলিয়িাসেন বলেন যে সবার সবজায়গায় সবদিন পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে তা সে কিনে হোক, উৎপাদন করে হোক অথবা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমেই হোক।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন