১৮:৪০:৪৩

২০১৮ নাগাদ পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার পরিকল্পনা

শুনুন /

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল – ইউনিসেফ বিশ্বকে পোলিওমুক্ত করার লক্ষ্যে ছ'বছর মেয়াদী এক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

পোলিওর প্রার্দুভাব প্রকট এরকম দেশগুলিতে বিশেষ করে – আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ায় পোলিও নিরোধক টিকা সেবনের কার্য্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে এই পরিকল্পনায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে পোলিও আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গু হওয়ার সংখ্যা ২০১৩তে সবচেয়ে নীচে নেমে এসে উনিশে দাঁড়িয়েছে।গতবছরে এই সংখ্যা ছিলো ২২৩।

জাতিসংঘের এই দুটি সংস্থা বলছে যে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল মেয়াদকালের এই পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজন হবে সাড়ে পাঁচশো কোটি ডলার – যার মধ্যে দাতা এবং বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কার্য্যক্রমের শরীকরা প্রায় চারশো কোটি ডলারের অঙ্গীকার করেছেন।

আবুধাবিতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক টিকাদান শীর্ষসম্মেলনে বিশ্বনেতারা ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্বকে পোলিওমুক্ত করার এই পরিকল্পনার প্রতি তাঁদের আস্থা প্রকাশ করেন।

বৈশ্বিক পোলিও নির্মূলকরণ উদ্যোগের একজন মুখপত্র  সোনা বারি বলেন যে গত দুবছরের অগ্রগতির কারণেই এই পরিকল্পনা তৈরি সম্ভব হয়েছে : ভারত পোলিওমুক্ত হয়েছে।এই দেশটি থেকে পোলিও দূর করা সবচেয়ে কঠিন বলে সবাই বিবেচনা করতেন এবং যে তিনটি দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি সেসব দেশেও অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

সোনা বারি বলেন যে আমাদেরকে ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। পঁচিশ বছর আগে পোলিও কারণে কমপক্ষে সাড়ে তিনলাখ শিশু পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলো। চলতি বছরে পোলিওতে পঙ্গু হয়েছে উনিশজন।

সোনা বারি বলেন অবশ্য আমাদেরকে এই রোগ নির্মূলের মাধ্যমে সংখ্যাটি শূণ্যে নামিয়ে আনতে হবে।সুতরাং, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই রোগের ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ করতে হবে। এরপর পরের তিনবছর বিশ্বের সবজায়গায় আমাদেরকে নজর রাখতে হবে যাতে কোথাও পোলিও না থাকে এবং নিশ্চিত করা যায় যে ভাইরাসটি নিশ্চিহ্ণ হয়েছে।

পোলিও যেকোন বয়সেই সংক্রমিত হতে পারে তবে পাঁচ বছরের কম বয়েসী শিশুদের মধ্যেই এই রোগের বিস্তার ঘটে বেশি।

বৈশ্বিক মন্দার কারণে হুমকিতে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি

বিশ্বে ম্যালেরিয়ার কারণে মৃত্যু গত দশকে প্রায় পঁচিশ শতাংশ পরিমাণে কমলেও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মন্দার কারণে ঐ অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে।

পঁচিশে এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া পার্টনারশিপ এই তথ্য জানিয়ে সব দেশের প্রতি ম্যালেরিয়াকে পরাস্ত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের এই বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে বলা হয় যে বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য যেখানে পাঁচশো কোটি ডলার প্রয়োজন সেখানে তহবিল পাওয়া যাচ্ছে এর অর্ধেকেরও কম।

রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া পার্টনারশিপ এর মুখপত্র ডঃ থমাস ট্যুশার বলেন যে ম্যালেরিয়া থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বিনিয়োগ দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্য্যক্রমকে সমৃদ্ধ করবে এবং অর্থনৈতিক কার্য্যক্রম বাড়লে আরো কর্মসংস্থান হবে, জীবনযাত্রার মান বাড়বে এবং তাতে আশা করা যায় যে সমাজে বৈষম্য কমবে।সুতরাং, ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ মানে শুধু ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য বিনিয়োগ নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগ।

রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া পার্টনারশিপ বলছে যে এই রোগের নিয়ন্ত্রণে ভূমিকাগ্রহণ শুধু ব্যয়ের নিরিখে যর্থাথ তাই নয় বরং এর মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনেও তা সহায়ক হবে।

নতুন পরিসংখ্যানে দেখা যায় আফ্রিকায় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে প্রতিটি ডলার ব্যয়ের বিপরীতে অর্থনীতিতে সুফল আসে পঞ্চাশ ডলার।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে খাদ্যের অপচয় কমানোর উদ্যোগ

ভাবুন, খান, সাশ্রয় করুন। আপনার খাদ্যের চিহ্ন যেন পড়ে না থাকে।এটাই হোল ২০১৩'র বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল ভাবনা।আগামী পাঁচই জুন মঙ্গোলিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হবে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কার্য্যক্রম -ইউ এন ই পি বলছে যে খাদ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত এই নতুন বৈশ্বিক প্রচারাভিযানে প্রধানত নজর দেওয়া হবে যে বিষয়টির ওপর তাহোল প্রতিবছর বিশ্বে একশো কোটি টন খাদ্য নষ্ট অথবা অপচয় হচ্ছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও এবং অন্যদের সহায়তায় এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোগ পর্য্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিতে অপচয় কমানো বিশেষ করে ভোক্তা, খুচরা বিক্রেতা এবং সেবাখাতে যেসব খাবারের অপচয় ঘটে সেবিষয়টি।

ইউ এন ই পি'র নির্বাহী পরিচালক আখিম ষ্টেইনার বলছেন যে সাতশো কোটি মানুষের বিশ্বে যেখানে ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যা পৌঁছুবে নশো কোটিতে সেখানে অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং নৈতিকভাবে অপচয়ের কোন অর্থ হয়না।

বন্যপ্রাণী ও বনজ পণ্যের বাণিজ্য গুরুতর অপরাধ

বন্যপ্রাণী এবং বনজ পণ্যের বাণিজ্যকে গুরুতর সংগঠিত অপরাধ হিসাবে বিবেচনার জন্য সবদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের দুটি সংস্থার প্রধানগণ।
সংস্থা দুটি হলো – মাদক এবং অপরাধ দপ্তর – ইউ এন ও ডি সি এবং কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জারড স্পেসিস অব ওয়াইল্ড ফনা এন্ড ফ্লোরা – সি আই টি ই এস।

তাঁরা বলেন যে পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ধরিত্রীর জীববৈচিত্রের ওপর এসব অপরাধের প্রভাব হয় ধ্বংসাত্মক।উদাহরণ হিসাবে তাঁরা বলেন যে পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকায় কাঠনির্ভর পণ্যের বেআইনী বাণিজ্য হয় প্রায় সতেরোশ কোটি ডলার।

ইউ এন ও ডি সি'র নির্বাহী পরিচালক  ইউরি ফেডোটভ বলেন যে চাহিদা কমানোর জন্য আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া প্রযোজন এবং আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং তথ্য সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণের সমস্যাগুলো আমাদেরকে মোকাবেলা করতে হবে।

মি ফেডোটভ বলেন যে বেআইনী পাচার চিহ্ণিত করা এবং অপরাধীদের বিচার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি এবং দেশগুলোর মধ্যে এবিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় প্রয়োজন। অপরাধীদের অর্থের উৎস এবং অপরাধের আয় খুঁজে বের করার বিষয়েও কাজ করা প্রয়োজন।

মি ফেডোটভ বলেন যে বন্যপ্রাণী এবং বনকে ঘিরে সংঘটিত অপরাধ থেকে অপরাধীচক্রগুলোকে মুনাফা করতে দেওয়া যায় না।

ভিয়েনায় অপরাধ দমন এবং অপরাধের বিচার বিষয়ক কমিশনের এক সভায় ইউ এন ও ডি সি'র প্রধান মঙ্গলবার তাঁর বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন।

তথ্যপ্রবাহে প্রথাগত বই এখনও গুরুত্বপূর্ণ: ইউনেস্কো প্রধান

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা – ইউনেস্কোর প্রধান বলেছেন যে জ্ঞান অর্জনে ডিজিটাল বই নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করলেও প্রথাগত বই এখনও একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক, আইরিনা বকোভা বলেন যে বই এবং তার সম্পাদকীয় বৈচিত্র্য বা গ্রন্থসম্ভারের বৈচিত্র্য সমৃদ্ধির একটি উৎস এবং তাকে অবশ্যই রক্ষা ও সমর্থন করা প্রয়োজন।

তেবশে এপ্রিল বিশ্ব গ্রন্থ ও মেধাস্বত্ত্ব দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে মিস বকোভা তাঁর বার্তায় বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও তথ্যের প্রসার ঘটানোয় বইকে বন্ধু হিসাবে বর্ণনা করেন।

ভারতে 'টয়লেট নেই, তো কনেও নেই' প্রচারাভিযান

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি গ্রামে তেইশ বছর বয়েসী মনীষ কুমার বিয়ে করছেন কুড়ি বছর বয়েসী কনে ববিতা রাণীকে।

ববিতা রাণী বলেন যে তাঁর বাবা-মা যখন বিয়ের বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নেন তখন তাঁরা প্রথম যে সিদ্ধান্তটি নেন তাহোল বরের ঘরে টয়লেট আছে কীনা। সুতরাং, বিয়ের জন্য বরপক্ষকে টয়লেট তৈরি করাতে হয়েছে।

ভারতে একশো কুড়ি কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের জন্যেই কোন টয়লেটের ব্যবস্থা নেই।মূলত ভারতে যতো মানুষের কাছে মোবাইল ফোন আছে ততোজনের টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব।শত শত বছর ধরে ভারতের বহু গ্রামে লোকজন রাস্তার পাশে তাদের প্রাতকর্ম করে থাকেন।

তবে, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব নয়। কেননা, এখন কম খরচেই টয়লেট বানানো সম্ভব হচ্ছে। সমস্যাটি মোকাবেলায় দেশটির সরকার এখন বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গ্রামবাসীদের শিক্ষা দিতে 'টয়লেট নেই তো, কনেও নেই' কার্য্যক্রম শুরু করেছে।

হিমাচল প্রদেশের একটি গ্রামের গ্রামপ্রধান রেবা কাশিয়া বলেন যে তাঁর গ্রামে যদি কাউকে কোন প্রকাশ্য জায়গায় প্রাকৃতিক কর্ম করতে দেখা যায় তাহলে তাকে জরিমানা করা হবে এক হাজার রুপি।এই জরিমানার টাকায় পোর্সেলিনের তৈরি চারটি টয়লেট বসানো সম্ভব।

এধরণের কঠোর ব্যবস্থায় রেবা কাশিয়ার গ্রামে কাজ হয়েছে এবং প্রত্যেকের ঘরেই এখন টয়লেট বসেছে। কিন্তু, পুরো দেশকে এই স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত করতে এখনও অনেক বাকি।২০১১'র পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটির ৫৩ শতাংশ মানুষ এখনও টয়লেট ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন